নাহিদ ইসলাম

এই মুহূর্তে জাতিকে বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ০২:৫৮ এএম
এই মুহূর্তে জাতিকে বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির (ওসমান হাদি) হত্যাকারীরা যদি ভারতে পালিয়ে থাকে, তবে তাদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। 

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি জানাতে এসে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন। সমাবেশে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও উপস্থিত ছিলেন।

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ওসমান হাদির লড়াই ছিল ভারতীয় ও বৈদেশিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ শুধু আওয়ামী লীগকেই বিতাড়িত করেনি, বরং দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও স্পষ্ট রায় দিয়েছে। ১৯৭১ সালের পর থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে, হাদি আমৃত্যু তার বিরুদ্ধেই লড়াই করে গেছেন।

আন্দোলনকারীদের দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলবে। তবে আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো ধরনের হামলা বা গুলি চালানো হলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। 

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনগণের ভেতরের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে একটি পক্ষ নাশকতার (স্যাবটেজ) চেষ্টা করতে পারে, তাই এই মুহূর্তে জাতিকে বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এ সময় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করেন। দফায় দফায় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শাহবাগ এলাকা। সমাবেশে ডাকসুর সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতারাও সংহতি প্রকাশ করেন। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৃথক বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

ঢাকা-৮ আসনের এই বিপ্লবী নেতার শাহাদাতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, এই লড়াই কেবল একজন নেতার হত্যার বিচার নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষার চূড়ান্ত লড়াই।

ইএইচ