ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির (ওসমান হাদি) শাহাদাতের প্রতিবাদে গতকাল রাতের পর আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালেও বিক্ষোভ ও মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা শাহবাগে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় তাঁদের মুখে ‘ফ্যাসিবাদের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’ এবং ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’ এমন সব স্লোগান শোনা যায়। বিক্ষোভের কারণে শাহবাগ ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
শনির আখড়া থেকে আসা মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আশফাকুর রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমরা একজন সাচ্চা দেশপ্রেমিককে হারিয়েছি। হাদি ভাইয়ের এই ত্যাগ বৃথা যেতে দেব না।” রামপুরা থেকে আসা ইমরুল কায়েস জানান, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না। বিক্ষোভকারীরা এই হত্যাকাণ্ডকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল তাঁর মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই দেশজুড়ে অস্থিরতা শুরু হয়। গতকাল রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে, যার ফলে আজ পত্রিকা দুটির প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সারা দেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। আজ সন্ধ্যায় হাদির মরদেহ ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শাহবাগ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন