ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির (ওসমান হাদি) শাহাদাত বরণে আজ দেশজুড়ে বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর প্রায় প্রতিটি মসজিদে ইমামগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বিপ্লবী নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
মুসল্লিরা হাদির শাহাদাত কবুলের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করার পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মোনাজাতের সময় ইমামগণ ওসমান হাদিকে এ দেশের তরুণ সমাজের প্রতিবাদের আদর্শ ও বিপ্লবী কণ্ঠস্বর হিসেবে অভিহিত করেন। হাদির নাম উচ্চারণের সময় অনেক মসজিদে মুসল্লিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ‘আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। প্রিয় নেতার এমন অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, হাদির স্মরণে আগামীকাল শনিবার সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
এদিকে হাদি হত্যার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল শুটার ফয়সাল ও তাঁর সহযোগীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র ধারণা করছে, তাঁরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন।
তবে পুলিশের দাবি, খুনিরা দেশেই আত্মগোপন করে আছেন। ইতিমধ্যে ফয়সালের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে বিজয়নগরের কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেল আরোহী ঘাতকদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। ঢাকা মেডিকেল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে টানা লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। আজ শাহবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন