তামাক নিয়ন্ত্রণে যুগান্তকারী অধ্যাদেশ কার্যকর: তাবিনাজের মিডিয়া ব্রিফিং

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
তামাক নিয়ন্ত্রণে যুগান্তকারী অধ্যাদেশ কার্যকর: তাবিনাজের মিডিয়া ব্রিফিং

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” জারি করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। 

এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ই-সিগারেট ও ভ্যাপের মতো আধুনিক নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি ভিত্তি তৈরি করা হলো।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP) ও নিকোটিন পাউচকে সরাসরি তামাকজাত দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি, প্রদর্শন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 

তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। কুইটলাইন হেল্প নম্বর এবং উৎপাদন তারিখ সম্বলিত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেট ছাড়া কোনো তামাকজাত দ্রব্য বাজারজাত করা যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, নতুন আইনটি নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ই-সিগারেট ও ভ্যাপকে ‘কম ক্ষতিকর’ বলে প্রচারণা চালিয়ে নারী ও কিশোরীদের আসক্ত করার যে প্রবণতা ছিল, এই অধ্যাদেশ তা বন্ধ করবে। 

বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি কমাতে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহনের পাশাপাশি পাবলিক প্লেসের পরিধি বৃদ্ধি এবং নিকটবর্তী ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন ও প্রচারের ক্ষেত্রেও কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কর্মসূচিতে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ।

তাবিনাজ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই যুগান্তকারী অধ্যাদেশ তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষা করবে। তবে আইনের সুফল পেতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কঠোর তদারকির ওপর জোর দিয়েছেন তারা। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে এই অধ্যাদেশ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইএইচ