কক্সবাজার বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
কক্সবাজার বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বুধবার সকাল ১১টায় এই মহড়ার আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মানদণ্ড এবং জাতীয় সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগ্রামের (এনসিএএসপি) নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি দুই বছরে অন্তত একবার এই ধরনের নিরাপত্তা মহড়া আয়োজন করা বাধ্যতামূলক। 

বিমান ছিনতাই ও বোমা হামলার মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই আয়োজন।

মহড়ায় কাল্পনিক একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। দৃশ্যপটে দেখা যায়, ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় ব্লু-ওয়েব এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট ৮ জন যাত্রী ও ২ জন ক্রু নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। উড্ডয়নের ১০ মিনিটের মাথায় কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি বেনামি টেলিফোন আসে। কলদাতা দাবি করেন, বিমানের ভেতরে একটি বোমা রাখা হয়েছে যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। কন্ট্রোল টাওয়ার দ্রুত বিষয়টি বিমানবন্দর পরিচালক ও এভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে অবহিত করে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং হুমকিটিকে বাস্তবসম্মত বিবেচনা করে বিমানবন্দর পরিচালক ‘ফুল এমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার (ইওসি) সক্রিয় করা হয় এবং বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে অবহিত করে সমন্বয় কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এই মহড়ায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিম এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ একাধিক সংস্থার সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের মহড়া শুধু দুর্বলতা শনাক্তের সুযোগই সৃষ্টি করে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের সময় সকল সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান মহড়াটি আসন্ন আইকাও নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীতকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

মহড়ায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্‌বুব খান, সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল, বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীগণ।

ইএইচ