শফিকুল আলম

গণভোট নিয়ে সমালোচনাকারীদের জানার পরিধি কম

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
গণভোট নিয়ে সমালোচনাকারীদের জানার পরিধি কম

নির্বাচন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মহাযজ্ঞকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কোনো অবকাশ নেই। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের সমষ্টিগত প্যাকেজ হিসেবেই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে এবং যারা এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করছেন, তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শাহ সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

‘হ্যাঁ’ ভোটের যৌক্তিকতা প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংস্কার প্রক্রিয়ায় গণভোটের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, যারা গণভোট নিয়ে সমালোচনা করছেন, তাদের জানার পরিধি কম। মূলত সংস্কারের সমষ্টিগত প্যাকেজ হচ্ছে এই গণভোট। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকার কেন এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি অবস্থান নিচ্ছে। তার মতে, সারা বিশ্বেই সরকারগুলো গণভোটের সময় কোনো একটি পক্ষের (হ্যাঁ অথবা না) পক্ষে অবস্থান নেয়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অপশাসন চিরতরে দূর করা। ভবিষ্যতে যাতে এ দেশে আর কোনো স্বৈরাচার ফিরে আসতে না পারে, কিংবা শেখ হাসিনার মতো শাহি দৈত্যদানব তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই সংস্কার প্রয়োজন। দেশের চুরি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। যেহেতু এই সরকার সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে এসেছে, তাই আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই কথা বলছি।

নিরাপত্তা প্রস্তুতি শেষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে যে কৌতূহল ও আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন প্রেস সচিব। তিনি জানান, গতকাল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেছেন।

শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। এবার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনের অপেক্ষা মাত্র।

দিনের ভোট রাতে হওয়ার সংস্কৃতি শেষ বিগত সরকারের আমলের নির্বাচনী ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রেস সচিব বলেন, গত ১৫ বছরে মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার হারিয়েছিল। বিগত সময়ে দিনের ভোট রাতে হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেনি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এ সরকার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করবে যে, আমাদের কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব নেই। মানুষ এবার নির্ভয়ে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

তিনি আশ্বস্ত করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের একমাত্র লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।

মাজার জিয়ারত ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এর আগে শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে শফিকুল আলম আখাউড়া মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছালে স্থানীয় প্রশাসন তাকে স্বাগত জানায়। তিনি মাজার জিয়ারত করেন এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন।

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ, আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম এবং মাজার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি মাজারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন।

প্রেস সচিবের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গণভোটকে সংস্কারের প্যাকেজ হিসেবে অভিহিত করায় এবং নির্বাচনের চূড়ান্ত দিনক্ষণ নিয়ে সংশয় দূর করায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি দেখা দিচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে এই প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়িত হয়, তা দেখার জন্য সবাইকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

জেএইচআর