নির্বাচনের আগে ৮ ইউএনওকে হঠাৎ বদলি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
নির্বাচনের আগে ৮ ইউএনওকে হঠাৎ বদলি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক মাসও বাকি নেই। এমন সময় আট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বা ইউএনও হঠাৎ বদলি করা হয়েছে। নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এসব কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বদলির কোনো কারণ উল্লেখ না করায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন অভিযোগের মুখে থাকা কর্মকর্তাদের শুধু কর্মস্থল পরিবর্তন নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের তালিকা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বরগুনার পাথরঘাটার ইউএনও ইশরাত জাহানকে ভোলার চরফ্যাশনে এবং চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের আল আমীনকে ফরিদপুরের নগরকান্দায় বদলি করা হয়েছে। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার রেহেনা আক্তারকে বগুড়ার ধুনটে এবং হবিগঞ্জের বাহুবলের লিটন চন্দ্র দে কে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া বগুড়ার ধুনটের প্রীতিলতা বর্মনকে হবিগঞ্জের বাহুবলে এবং নগরকান্দার মেহরাজ শারবীনকে নেত্রকোণার কলমাকান্দায় বদলি করা হয়েছে। কলমাকান্দার মাসুদুর রহমানকে ভাণ্ডারিয়ায় এবং চরফ্যাশনের লোকমান হোসেনকে পাথরঘাটায় পদায়ন করা হয়েছে।

অভিযোগ ও বিতর্কের নেপথ্যে সম্প্রতি নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ইউএনও মাসুদুর রহমানের সঙ্গে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করার দুই দিন পরেই ইউএনওকে বদলি করা হলো।

অন্যদিকে গত ৩০ ডিসেম্বর দায়িত্বে অবহেলা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে পাথরঘাটার ইউএনও ইশরাত জাহানকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। এছাড়া ভান্ডারিয়ার ইউএনও রেহেনা আক্তারের বিরুদ্ধে গণভোটে না ভোট দিতে উৎসাহিত করার লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল নির্বাচন কমিশনে।

বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের উদ্বেগ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন অভিযোগ ওঠার পরও কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার না করে শুধু স্টেশন পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে কার্যত দায় এড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে যা ইসির নিরপেক্ষতাকে বিতর্কিত করতে পারে।

সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ আব্দুস সবুর মনে করেন এটি একটি প্রশাসনিকভাবে দুর্বল সিদ্ধান্ত। এতে অভিযোগের মূল বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় না বরং জনগণের মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্মসচিব জানান নির্বাচনের এই সময়ে নতুন করে মাঠে কর্মকর্তা পাঠানো ঝামেলার কাজ। তাই অভিযোগ থাকলেও তাঁদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করার সুযোগ ছিল না।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই বদলিকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুরোধেই এই বদলির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

জেএইচআর