ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের আজ শেষ দিন। সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতা কমা দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। বিশেষ করে গৃহস্থালি পণ্য কমা প্লাস্টিক সামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক প্রদর্শনী কেন্দ্রগুলোতে পা ফেলার জায়গা নেই। সমাপনী দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিটি স্টল ও প্রদর্শনী কেন্দ্রে চলছে বিশাল সব অফার আর মূল্যছাড়।
এবারের মেলা ব্যবসায়ীদের জন্য ছিল কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। মেলার শুরুতে বৈরী আবহাওয়া এবং রাজনৈতিক ডামাডোল ও নির্বাচনের প্রভাবে বেচাবিক্রি ছিল প্রত্যাশার চেয়ে কম। এছাড়া রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে মেলার সময়সীমা থেকে তিন দিন বাদ যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ এক সপ্তাহে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বিশেষ করে আজ শেষ দিনে ক্রেতাদের প্রবল সাড়া দেখে উদ্যোক্তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবি সূত্রে জানা গেছে কমা মেলার শুরুতে নানা শঙ্কা থাকলেও সামগ্রিক ফলাফল বেশ সন্তোষজনক। গত বছরের তুলনায় এ বছর মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। বাণিজ্য মেলা থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণ বা মূল্য সংযোজন কর আদায়ের পরিমাণও গত বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইপিবির একজন কর্মকর্তা জানান কমা মেলা পূর্বাচলে স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে ঢাকার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ কমা গাজীপুর ও নরসিংদী এলাকার মানুষের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
প্রতিবারের মতো এবারও মেলার শেষ দিনে স্টলগুলোতে চলছে ছাড়ের লড়াই। বিভিন্ন প্রদর্শনী কেন্দ্রে ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিক্রয় অফার দেওয়া হচ্ছে। অনেক কোম্পানি পণ্য কিনলে দিচ্ছে নিশ্চিত উপহার কমা একটি কিনলে একটি ফ্রি অফার এবং উপহার ভাউচার। গৃহিণীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে রান্নাঘরের তৈজসপত্র ও মসলা পণ্যের স্টলগুলোতে। তরুণ প্রজন্মের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল স্মার্ট গেজেট এবং রাস্তার ধারের মুখরোচক খাবার অঞ্চল।
উল্লেখ্য, কমা গত ১ জানুয়ারি মেলা উদ্বোধনের কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তারিখ পিছিয়ে ৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। গত এক মাসে দেশি কমা বিদেশি কয়েকশ প্রতিষ্ঠান মেলায় তাদের পণ্য প্রদর্শন করেছে। বিশেষ করে স্থানীয় বস্ত্র ও ইলেকট্রনিক্স খাতের বিশাল প্রদর্শনী কেন্দ্রগুলো বিদেশি ক্রেতাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
আজ রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ থাকবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে সফল ব্যবসায়ীদের মাঝে বিভিন্ন শ্রেণিতে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে মেলার পর্দা নামবে। সব মিলিয়ে প্রতিকূল আবহাওয়া আর নির্বাচনের প্রভাব কাটিয়ে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এক সফল সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় দর্শনার্থী ১৫ শতাংশ ও কর আদায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া এবং শেষ দিনে ১০ থেকে ৭০ শতাংশ মূল্যছাড় মেলার অন্যতম বিশেষ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন