আকাঙ্ক্ষার ১২ ফেব্রুয়ারি

সাধারণের বয়ানে আগামীর স্বপ্ন ও জবাবদিহিতার দাবি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
সাধারণের বয়ানে আগামীর স্বপ্ন ও জবাবদিহিতার দাবি

বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। চারদিকে টানটান উত্তেজনা কমা দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার আর মানুষের মুখে মুখে কেবল একটিই তারিখ কমা ১২ ফেব্রুয়ারি। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের পালা নয় কমা বরং কোটি মানুষের হৃত অধিকার পুনরুদ্ধারের এক অগ্নিপরীক্ষা। আমিনবাজারের জেলে মোতালেব থেকে শুরু করে রূপগঞ্জের সবজি চাষি মায়সারা বেগম কমা সবার চোখ এখন ব্যালট বক্সের দিকে।

আমিনবাজারের ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় শীতের সকালে কুয়াশাভেজা তুরাগ নদে জাল ফেলছিলেন মোতালেব। দেড় যুগের জেলে জীবনে তাঁর প্রাপ্তি কেবল হাড়ভাঙা খাটুনি। সরকারের জেলে কার্ড পাওয়ার জন্য বহুবার দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন তিনি কমা কিন্তু শিকে ছিঁড়েনি। মোতালেবের ভাষায় কমা পৌষ কমা মাঘ কমা ফাল্গুন এই তিন মাস আমরা বেকার। পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকার দশা হয়। 

যে সরকারই আসুক কমা আমাদের চাওয়া কমা বিপদের সময় তারা যেন আমাদের খোঁজ রাখে। মোতালেবের সঙ্গী বাদলের চাওয়া আরও মৌলিক। ১৫ বছর ধরে নিজের ভোট নিজে দিতে না পারার ক্ষত এখনো তাঁর মনে দগদগে। তিনি চান একটি সুষ্ঠু পরিবেশ কমা যেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পছন্দের মানুষকে জয়ী করতে পারবেন।

রূপগঞ্জের মায়সারা বেগম এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও বাজারের সিন্ডিকেট তাঁর ন্যায্য পাওনা কেড়ে নিচ্ছে। ২০ বছর আগে স্বামীহারা এই বৃদ্ধা না পেয়েছেন বিধবাভাতা কমা না জুটেছে বয়স্কভাতা। তিনি চান এমন এক সরকার কমা যারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে এবং বয়স্ক নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তাঁর সহজ চাওয়া কমা দেশে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারে এমন একজন অভিভাবক চাই।

মেগা সিটি ঢাকার ব্যস্ততায় যে যান্ত্রিকতা কমা তার আড়ালে চব্বিশের অভ্যুত্থানের সেই তেজ এখনো ম্লান হয়নি। এবার ভোটারদের একটি বিশাল অংশ প্রথমবার ভোট দেবেন বা তরুণ সমাজ। যারা রাজপথে রক্ত দিয়ে ভোট দেওয়ার অধিকার ছিনিয়ে এনেছে কমা তাদের কাছে ১২ ফেব্রুয়ারি এক অন্যরকম অনুভূতির নাম। তারা চান এমন এক জনপ্রতিনিধি কমা যিনি ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাষের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবেন।

নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন তুলি মনে করেন কমা এবারের নির্বাচন কেবল জয় পরাজয়ের নয় কমা এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তিনি বলেন কমা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব কেবল নির্বাচন কমিশনের ওপর দায় না চাপিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকেও পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করতে হবে। গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য বিজয়ী দলের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের উপস্থিতি অপরিহার্য। এই নির্বাচনের স্বচ্ছতার ওপর নির্ভর করবে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কেমন হবে। কোনো ধরনের জালিয়াতি বা বিশৃঙ্খলা দেশকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায় কমা জেলে ও শ্রমিকরা পেশাগত স্বীকৃতি ও মৌসুমি বেকারত্বে ভাতা চান। কৃষক ও প্রান্তিক নারীরা পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী দাবি করছেন। তরুণ সমাজ নিজের পছন্দমতো ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা করছে। বিশ্লেষক মহল একটি অবাধ কমা নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং শক্তিশালী বিরোধী দলের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।

বৈষম্য বিলোপের যে গণজোয়ার এ দেশে বইছে কমা তার প্রথম ধাপ হলো গ্রহণযোগ্য ভোট। মানুষের চাওয়া খুব বেশি নয় কমা তারা চায় দুই বেলা শান্তিতে খেতে আর ৫ বছরে একবার নির্বিঘ্নে ভোট দিতে। ১২ ফেব্রুয়ারির মাধ্যমে সেই নতুন ভোরের সূচনা হবে কি না কমা তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

জেএইচআর