সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের প্রয়াণ, কারাগারে অসুস্থতার পর হাসপাতালে মৃত্যু

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের প্রয়াণ, কারাগারে অসুস্থতার পর হাসপাতালে মৃত্যু

দিনাজপুর জেলা কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ রাজনীতিক এবং সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন। 

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার গণমাধ্যমকে জানান, আজ সকাল ৯টার দিকে রমেশ চন্দ্র সেন হঠাৎ তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাসুদ রানা জানান, সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে তাঁকে হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনুপম পাল পরীক্ষা ও নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ভাষায় তাঁকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের ১৭ আগস্ট থেকে তিনি দিনাজপুর কারাগারে বিশেষ মর্যাদা বা ডিভিশনপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে বন্দী ছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। রমেশ চন্দ্র সেন ছিলেন দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজনীতির এক পরিচিত মুখ।

রমেশ চন্দ্র সেন ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন এবং মা বালাশ্বরী সেন। তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৯৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি উপনির্বাচনের মাধ্যমে। এরপর তিনি ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং সবশেষে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রমেশ চন্দ্র সেন বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে।

ওই বছরের ১৬ আগস্ট গভীর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালতের নির্দেশে ১৭ আগস্ট তাঁকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে আজ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কারাগারেই ছিলেন।

রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুর সংবাদ ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে পৌঁছালে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।

রমেশ চন্দ্র সেনের প্রয়াণের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। পাঁচবারের সংসদ সদস্য এবং সাবেক এই মন্ত্রীর শেষ সময়টি কাটল কারান্তরালে। তাঁর মরদেহ সৎকারের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

জেএইচআর