টিআইবি

দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম

বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণা সূচক বা ‘করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স’ (সিপিআই) ২০২৫-এর বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)।

মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডিস্থ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের দুর্নীতির স্কোর গত বছরের তুলনায় ১ পয়েন্ট বাড়লেও বৈশ্বিক তালিকায় অবস্থানের এক ধাপ অবনতি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। সিপিআই সূচকে ০ থেকে ১০০-এর স্কেলে স্কোর নির্ধারণ করা হয়। যেখানে ০ মানে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ১০০ মানে সবচেয়ে স্বচ্ছ দেশ।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ২৪ (২০২৪ সালে যা ছিল ২৩)। ১৮২টি দেশের মধ্যে নিম্নক্রম অনুযায়ী (সবচেয়ে খারাপ থেকে ভালো) বাংলাদেশ গতবারের ১৪তম স্থান থেকে পিছিয়ে ১৩তম স্থানে নেমে এসেছে। সারা বিশ্বের গড় স্কোর যেখানে ৪২, সেখানে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ২৪, যা নির্দেশ করে যে দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা এখনো ভয়াবহ পর্যায়ে।

স্কোর ১ পয়েন্ট বাড়ার পরও র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে যাওয়ার পেছনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি মিশ্র প্রভাব কাজ করেছে বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। 

তিনি বলেন, ১ পয়েন্ট বাড়ার মূল কারণ হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতনের পর তৈরি হওয়া ইতিবাচক বৈশ্বিক মূল্যায়ন। তবে সংস্কার প্রক্রিয়ার ধীরগতি, মাঠপর্যায়ে দুর্নীতির ধারাবাহিকতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত তৈরি করতে না পারার কারণে সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে আমরা এক ধাপ পিছিয়েছি। আমরা আসলে একটি বড় সুযোগ হারালাম।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভুটান দুর্নীতি দমনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান এই অঞ্চলে আফগানিস্তানের ঠিক ওপরে।

টিআইবি মনে করে, রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কাজ শুরু করেছিল, তার সুফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুর্নীতির এই চক্র থেকে বের হতে হলে কেবল বড় বড় পরিবর্তন নয়, বরং আমলাতন্ত্র ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমূল সংস্কার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় আগামী বছরগুলোতে স্কোর ও র‍্যাঙ্কিংয়ের আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এএন