অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘অত্যন্ত দক্ষ লোক দিয়ে অর্থপাচার করা হয়েছে। তবু তাদের চিহ্নিত করা গেছে। নির্বাচিত সরকার সিরিয়াস হলে, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনা সম্ভব।’
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “বিগত দিনে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও দক্ষ লোক দিয়ে অর্থ পাচার করা হয়েছে। কত টাকা পাচার হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট অঙ্ক এখনো নিরূপণ করা যায়নি, তবে আমরা একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছি।”
অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া নিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি কোনো এককালীন কাজ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়া।
পাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশলে অর্থ সরিয়ে নিয়েছে, যা উদ্ধার করতে আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থাগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। তিনি পরামর্শ দেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থ উদ্ধারের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে তা গুরুত্বের সাথে চালিয়ে নিতে হবে। যদি পরবর্তী সরকার তৎপর হয়, তবেই এই অর্থ দেশে ফেরত আনা সম্ভব।
নিজের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা জানান, তিনি ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব জমা দিয়ে দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালন করায় ভবিষ্যতে তাঁকে কোনো আইনি জটিলতা বা মামলার সম্মুখীন হতে হবে না।
তিনি আরও জানান, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসের কার্যক্রমের ওপর প্রয়োজনে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারবে পরবর্তী সরকার।
সালেহউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশের অর্থনীতিকে গত ১৮ মাসে একটি সন্তোষজনক ও স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি ভিত্তি তৈরি করেছি যেখান থেকে দেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে পারবে। তবে এজন্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের কাজগুলো কেবল শুরু হয়েছে, যার সুফল পেতে হলে আগামী সরকারকে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে হবে এবং ব্যাংকিং খাতসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন