জেনারেল ওয়াকার

নির্ভয়ে ভোট দিন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
নির্ভয়ে ভোট দিন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে সেনাবাহিনী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহাসংযোগে দেশজুড়ে যখন উৎসব আর উৎকণ্ঠার মিশ্র আমেজ, ঠিক তখনই সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করতে রাজপথে সংকল্পবদ্ধ বার্তা দিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। 

বৃহস্পতিবার সকালে ভোটগ্রহণ চলাকালীন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিবেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে; তাই কোনো প্রকার দ্বিধা বা ভয় না রেখে প্রত্যেকে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে আসুন।

ভোটের দিন সকাল থেকেই সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর আসলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতিকে ‘শান্তিপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সেনাপ্রধান। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এবং দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সেনাপ্রধান বলেন, আমি দেশের সম্মানিত ভোটারদের অনুরোধ করব, আপনারা নির্ভয়ে বাসা থেকে বের হয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন। আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় এবং ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী সারা দেশে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছে। সেনাপ্রধানের আজকের এই বার্তা মূলত সাধারণ মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

তিনি জানান ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে বড় শহরগুলোর প্রতিটি কেন্দ্রে টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব এবং বিজিবির সাথে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী কাজ করছে যাতে কোনো ধরনের অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না থাকে।কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে সেনাবাহিনীর বিশেষ টিম পৌঁছে যাচ্ছে।

নির্বাচনের আগে থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং নাশকতার আশঙ্কায় কিছু ভোটারের মধ্যে জড়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিশেষ করে রাজধানীর কিছু এলাকায় এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিয়ে সংশয় ছিল। সেনাপ্রধানের সরাসরি এই আশ্বাস সেই সংশয় কাটাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভোটারদের চলাচলে বাধা দেওয়া বা কেন্দ্রে আসতে ভয় দেখানো এমন যেকোনো প্রচেষ্টাকে কঠোর হাতে দমন করা হবে। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি কেবল শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নয়, বরং ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকারের সুরক্ষাকবচ হিসেবে।

একটি ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেনাপ্রধান বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পরিদর্শন করছেন এবং দায়িত্বরত সেনাসদস্যদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তাঁর দেহভঙ্গি এবং বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, জাতীয় এই নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিচ্যুতি সহ্য করতে নারাজ সেনাবাহিনী।

সেনাপ্রধানের এই আহ্বানের পর দুপুরের দিকে রাজধানীর কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। মিরপুর থেকে আসা একজন নারী ভোটার বলেন, সকালে কিছুটা ভয় কাজ করছিল, কিন্তু রাস্তায় সেনাটহল দেখে সাহস পেয়েছি। নিজের ভোট নিজেই দিতে পারছি, এটাই বড় বিষয়।

একটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সামরিক বাহিনীর নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থান ভোটারদের মনে আস্থার সঞ্চার করে। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেই আস্থার জায়গাটিকেই আজ পুনর্নিশ্চিত করেছেন। এখন দেখার বিষয়, বিকেলের শেষ সময় পর্যন্ত এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে কি না। তবে সেনাপ্রধানের এই 'অভয়বাণী' ভোটারদের মধ্যে যে এক ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এএন