বিদ্যুৎমন্ত্রী 

ঋণে ডুবে থাকার চেয়ে লোডশেডিংয়ের কষ্ট সহ্য করা ভালো

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
ঋণে ডুবে থাকার চেয়ে লোডশেডিংয়ের কষ্ট সহ্য করা ভালো

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, অতীতে লোডশেডিং থাকলেও জাতির কাঁধে ঋণের বোঝা ছিল না। বর্তমানে বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। ঋণে ডুবে থাকার চেয়ে কষ্ট করে থাকা ভালো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

এর আগে বিদ্যুৎ খাতের ৭৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া ও লোকসান নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে বিভিন্ন কোম্পানির পাওনা এখন ৪৬ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩০ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন সরকারি কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান। এই বিশাল বকেয়া পরিশোধ করা না হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলে বিদ্যুৎমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হলেও সেখানে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারলেও অনেক কেন্দ্রকে বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হচ্ছে। পুরো খাতে একটি হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে বলে তিনি জানান।

সিস্টেম লস কমানোর ওপর জোর দিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ১৯ বছর আগে সিস্টেম লস ৬ শতাংশ থাকলেও এখন তা ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ১ শতাংশ সিস্টেম লস কমানো মানে বিপুল সাশ্রয়। প্রাথমিকভাবে এটি ৫ শতাংশে এবং পরে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রয়োজনীয় গ্যাস কূপ খনন না করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা বিদেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছি। রিগ কেনা এবং দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে দেশীয় সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

জেএইচআর