রাজধানীর দক্ষিণ অংশে মশার উপদ্রব অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছানোয় মশক নিধন কার্যক্রমে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
মশা নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ব্যর্থতা বা গাফিলতি পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামীকাল রোববার থেকে ডিএসসিসি এলাকায় ১০ দিনব্যাপী একটি বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হতে যাচ্ছে।
শনিবার নগর ভবন অডিটোরিয়ামে স্বাস্থ্য বিভাগের মশক নিধন শাখার কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি বৈঠক করেন প্রশাসক। সভায় তিনি বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে অবহেলা বা দুর্নীতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
নগরবাসী মশার যন্ত্রণায় ভুগবে আর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন এমনটা আর চলবে না। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান এখন জিরো টলারেন্স।
-20260228150341.jpeg)
প্রশাসকের নির্দেশে আগামীকাল থেকে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে ১০ দিনের বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হবে। এই কর্মসূচিতে সিটি কর্পোরেশনের বিশাল কর্মী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সম্পৃক্ত করা হবে।
প্রশাসক নিজেই মাঠ পর্যায়ে এই কার্যক্রমের তদারকি করবেন এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন বলে সভায় জানানো হয়। মূলত মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস এবং পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনে ফগিং ও লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমকে আরও নিবিড় করতেই এই কর্মসূচি।

কেবল ওষুধ ছিটিয়ে নয়, বরং উৎস নির্মূলে আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসসিসি। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে কোনো স্থাপনায় এডিস বা কিউলেক্স মশার লার্ভা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হবে।
সরকারি বা বেসরকারি যে কোনো স্থাপনায় মশার প্রজননস্থল পাওয়া গেলে এবং বারবার সতর্ক করার পরও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মশক নিধনে ব্যবহৃত বর্তমান ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। সভায় ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। একইসাথে প্রচলিত ওষুধের বিকল্প হিসেবে আরও শক্তিশালী ও নতুন কোনো কার্যকর ওষুধের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মশক কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসক।
মশা নিয়ন্ত্রণে কেবল স্বাস্থ্য বিভাগ নয়, বরং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথেও সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ জমে থাকা বর্জ্য বা নালা-নর্দমা মশার প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। এছাড়া মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম, কর্পোরেশন সচিব মোহাম্মদ নাছিম আহমেদ এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সকল বিভাগীয় প্রধান, আঞ্চলিক কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের মশক নিধন শাখার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের এই ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা এবং ১০ দিনের ক্রাশ প্রোগ্রাম নগরবাসীর মনে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। তবে অতীতেও এমন অনেক কর্মসূচি দেখা গেছে, যা কেবল লোকদেখানো অভিযানে সীমাবদ্ধ ছিল।
এবারের ক্রাশ প্রোগ্রাম সফল করতে হলে লার্ভিসাইডিংয়ের গুণগত মান বজায় রাখা এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ফাঁকিবাজি রোধ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে ডিএসসিসি'র আওতাধীন নতুন সংযুক্ত ওয়ার্ডগুলোতে মশার উপদ্রব বেশি হওয়ায় সেখানে নজরদারি বাড়ানোর দাবি নগরবাসীর।

রোববার থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচি মশার উপদ্রব কতটুকু কমাতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান যদি মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবেই আসন্ন গরম ও বর্ষার আগে নগরবাসী মশা ও মশাবাহিত রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন