টি-২০ বিশ্বকাপ

আহমেদাবাদে ভারত-নিউজিল্যান্ড দ্বৈরথ ও রিকি মার্টিনের সুরেলা সমাপনী

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
আহমেদাবাদে ভারত-নিউজিল্যান্ড দ্বৈরথ ও রিকি মার্টিনের সুরেলা সমাপনী

এক মাসের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই, গ্যালারি কাঁপানো চার ছক্কার বৃষ্টি আর বোলারদের আগুন ঝরানো স্পেল, সবকিছুর সমাপ্তি হতে যাচ্ছে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের মাধ্যমে। 

রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক ভারত এবং অপরাজেয় নিউজিল্যান্ড। এই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে ঘিরে যেমন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, তেমনি মাঠের লড়াই শুরুর আগে ক্রিকেট বিশ্বকে রাঙিয়ে দিতে প্রস্তুত বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরের পর্দা নামছে আগামীকাল। 

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লাখো দর্শকের উপস্থিতিতে নির্ধারিত হবে কে পরবে বিশ্বজয়ের মুকুট। একদিকে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী ভারত এবং অন্যদিকে মিচেল স্যান্টনারের কৌশলী নিউজিল্যান্ড। ফাইনালের আগে জমকালো আয়োজনে মাতিয়ে তুলতে থাকছেন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় জনপ্রিয় তারকারা।

এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল দুটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। সূর্যকুমার যাদবের দুর্দান্ত ব্যাটিং আর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে ইংলিশদের হারিয়ে চতুর্থবারের মতো কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখে টিম ইন্ডিয়া। 

অন্যদিকে, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে দক্ষিণ আফ্রিকাকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে কিউইরা নিশ্চিত করেছে তাদের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল। কিউইদের এই দাপুটে পারফরম্যান্স ভারতকে কিছুটা হলেও ভাবিয়ে তুলছে।

ঘরের মাঠে খেলা এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতের পাল্লা ভারি বলে মনে করছেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। তবে আইসিসি টুর্নামেন্টের ইতিহাস বলছে অন্য কথা। বিশ্বকাপের মঞ্চে কিউইরা সবসময়ই ভারতের জন্য এক কঠিন ধাঁধা। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারেনি ভারত। 

কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ইতিমধ্যেই হুঙ্কার দিয়েছেন যে গ্যালারির হাজার হাজার ভারতীয় দর্শককে তিনি চুপ করিয়ে দিতে চান। ফলে ইতিহাস আর বর্তমান ফর্মের লড়াইয়ে এক হাড্ডাহাড্ডি ফাইনাল দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।

কেবল ব্যাট বলের লড়াই নয়, ফাইনালের রাতকে স্মরণীয় করে রাখতে আহমেদাবাদে বসছে চাঁদের হাট। ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আর বিশ্বসংগীতের মেলবন্ধন দেখা যাবে এই সমাপনী অনুষ্ঠানে। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড বা বিসিসিআই ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। 

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বিশ্ববিখ্যাত পুয়ের্তো রিকান পপ তারকা রিকি মার্টিন। তাঁর আইকনিক গানগুলো আহমেদাবাদের আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করবে। রিকি মার্টিনের পাশাপাশি থাকছেন বলিউডের জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়ক সুখবীর, যাঁর গান গ্যালারিতে উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেবে। 

এছাড়া আহমেদাবাদের স্থানীয় দর্শকদের আবেগের কথা মাথায় রেখে থাকছেন জনপ্রিয় গুজরাটি লোকসংগীতশিল্পী ফাল্গুনী পাঠক। ডান্ডিয়া কুইন হিসেবে পরিচিত ফাল্গুনী পাঠকের সুরের ছোঁয়ায় পুরো স্টেডিয়াম এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহে ডুবে যাবে।

বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠান। প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাপী এই সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পর রাত ৮টায় টসের মাধ্যমে শুরু হবে মাঠের মূল লড়াই। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শক এই অনুষ্ঠান ও খেলা সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। 

ভারত কি পারবে তাদের তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুলে রেকর্ড গড়তে, নাকি নিউজিল্যান্ড প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে তার উত্তর পাওয়া যাবে আগামীকাল রাতেই। তবে লড়াই শুরুর আগে রিকি মার্টিন আর ফাল্গুনী পাঠকদের সুরে সুর মিলিয়ে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব যে এক সুরে গাইবে তা বলাই বাহুল্য। আহমেদাবাদ এখন কেবল একটি ফাইনালের জন্য নয়, বরং এক ঐতিহাসিক উৎসবের জন্য প্রস্তুত।

জেএইচআর