দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে আতঙ্ক না ছড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য রহমান অমিত ও জ্বালানি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় বৈঠকে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব উপস্থাপন করলেও প্রধানমন্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করেন। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করে সরকার ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত লোকসান করছে। তবে প্রধানমন্ত্রী সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেন এবং বাজারে স্বাভাবিকতা ফেরাতে বলেন।
বৈঠকে জানানো হয়, আগামী ৯ মার্চ দুটি জাহাজে করে ডিজেল দেশে পৌঁছাবে এবং পরবর্তীতে আরও দুটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির আংশিক চালু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, তেলের মজুতদারি যেন না হয়, এজন্য কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারি মূল্য অতিক্রম করে কেউ তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রোববার থেকে সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে, যাতে সঠিক পরিমাণে তেল সরবরাহ হচ্ছে কি না তা যাচাই করা যায়।
অন্যদিকে, রেশনিং কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে শনিবার তীব্র ভিড় ও হুড়াহুড়ি দেখা গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার কারণে রাজধানীর অনেক ফিলিং স্টেশন দুপুরের পর বন্ধ হয়ে গেছে।
ঢাকা ও আশপাশের এলাকার প্রায় ১২৫টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তেলের স্বল্পতার কারণে শনিবারের মধ্যেই শতাধিক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন