ঈদযাত্রার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘অ্যাকশন মোডে’ সরকার: অনিয়ম পেলেই তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
ঈদযাত্রার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘অ্যাকশন মোডে’ সরকার: অনিয়ম পেলেই তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এবারের ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা যাত্রী হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। 

শনিবার সকালে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল সরজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অনড় অবস্থানের কথা জানান।

মন্ত্রী জানান, আসন্ন ঈদের ছুটিতে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ঢাকা ছেড়ে যাবেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

শেখ রবিউল আলম বলেন, আমাদের সক্ষমতা সীমিত হতে পারে, কিন্তু সেই সীমিত সম্পদ দিয়েই আমরা এই চ্যালেঞ্জ জয় করতে বদ্ধপরিকর। খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে ঈদযাত্রার তদারকি করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

টার্মিনালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত যাত্রীদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বাসের শিডিউল বিপর্যয় রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে গাড়িগুলো সঠিক সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। 

অনিয়ম রোধে প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রতিটি টার্মিনালে পর্যাপ্ত ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন বা সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নজরদারি বাড়াতে আগে যেখানে মাত্র ৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করতেন, এখন সেখানে ২৪টি মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। মহাসড়কগুলোতে হাইওয়ে পুলিশের টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারিও কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

যাত্রীদের পথের ভোগান্তি কমাতে মহাসড়কের নির্মাণাধীন এলাকাগুলোর মালামাল ও যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যানজটপ্রবণ এলাকা বা বড় সেতুর কাছাকাছি ইফতার সামগ্রী রাখার অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়, যাতে পথিমধ্যে ইফতারের সময় হওয়া যাত্রীরা অভুক্ত না থাকেন। এ ছাড়া জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মহাসড়ক সংলগ্ন হাসপাতালগুলোকে বিশেষ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

ঈদযাত্রায় যাতে কোনো যানবাহন জ্বালানি সংকটে না পড়ে, সে জন্য ঈদের আগে ও পরে মোট ১২ দিন দেশের সব পেট্রোল পাম্প ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পাশাপাশি সংবাদকর্মীদেরও বিশেষ ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে আপনাদের চোখে যদি কোনো অসঙ্গতি বা বড় অনিয়ম ধরা পড়ে, তবে তা অবিলম্বে সংবাদে তুলে ধরুন। সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা বা ইনস্ট্যান্ট অ্যাকশন গ্রহণ করব। 

বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন প্রতিকূলতার মাঝেও সাধারণ মানুষের ঈদ আনন্দকে নিরবচ্ছিন্ন করতে সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তবে দেড় কোটি মানুষের এই বিশাল চাপ সড়ক কতটুকু সামাল দিতে পারবে, তা আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে।

জেএইচআর