দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করার লক্ষ্যে বড় ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নীলফামারী, ঢাকা, গাজীপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি জেলা পরিষদে নতুন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ কার্যকর করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত এই আদেশে জানানো হয়েছে, জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ক্ষমতা বলে এবং জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক এই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যে ১৪ জন ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ নিজ জেলায় পূর্ণকালীন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কাজ করবেন। তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:
নিযুক্ত প্রশাসকগণের নাম নিচে ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো:
ঢাকা: মোঃ ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ
গাজীপুর: চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী
ফেনী: অধ্যাপক এম এ খালেক
চাঁদপুর: এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম
পাবনা: মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম
হবিগঞ্জ: আহমেদ আলী
নীলফামারী: মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী
লালমনিরহাট: এ কে এম মমিনুল হক
নড়াইল: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আলেক
বরগুনা: মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা
জামালপুর: মোঃ সিরাজুল হক
মানিকগঞ্জ: জামিলুর রশিদ খান
নরসিংদী: তোফাজ্জল হোসেন
ফরিদপুর: মোঃ আফজাল হোসেন পলাশ
সরকারের এই পদক্ষেপ মূলত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর একটি অংশ। ২০২৪ সালের সংশোধিত অধ্যাদেশের ধারা ৩-এর মাধ্যমে জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে বা জনস্বার্থে সরকার কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে।
আজকের এই ১৪ জেলার নিয়োগ সেই আইনি কাঠামোর অধীনেই সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
জেলা পরিষদ হলো একটি জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। রাস্তাঘাট নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তদারকি করা এই পরিষদের প্রধান কাজ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অনেক জেলায় নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল।
ঝুলে থাকা এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) প্রকল্পগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করা। স্থানীয় পর্যায়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের সাথে সমন্বয় সাধন করা।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল সমৃদ্ধ জেলাগুলোতে নতুন প্রশাসক নিয়োগের ফলে প্রশাসনিক কাজে নতুন উদ্যম আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফেনী ও চাঁদপুরের মতো জেলাগুলোতেও অধ্যাপক ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন এই ব্যবস্থা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনবে। তবে তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।
১৪ জেলা পরিষদে এই নতুন নিয়োগের ফলে স্থানীয় প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবর্তন এলো। আজ থেকেই নবনিযুক্ত প্রশাসকরা তাদের দপ্তরে যোগদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা, নতুন প্রশাসকরা রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে জেলার সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন এবং সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অংশীদার হবেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন