প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বিজন কান্তি সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বিজন কান্তি সরকার

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন সাবেক সচিব ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ শেষে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা সাংবাদিকদের এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি একে দেশের জাতীয় জীবনে সকল সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন।

বিগত বেশ কিছু সময় ধরে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলো রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তাদের অধিকতর প্রতিনিধিত্বের দাবি জানিয়ে আসছিল। বিশেষ করে প্রশাসন ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্যতার ভিত্তিতে যেন তাদের সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করা হয়, সেই বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিজন কান্তি সরকারের নিয়োগের খবরটি এমন এক সময়ে এল, যখন দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে। 

সন্তোষ শর্মা বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি উত্থাপন করেছিলাম। আজ প্রধানমন্ত্রী আমাদের সেই দাবি পূরণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন।

বিজন কান্তি সরকার বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। সাবেক এই সচিব তার দীর্ঘ কর্মজীবনে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি 'হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট'-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আজকের বৈঠকটি কেবল নিয়োগের বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ হিন্দুদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বিভিন্ন 'মিথ্যা মামলা' প্রত্যাহারের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সন্তোষ শর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পদে বিজন কান্তি সরকারের নিয়োগের এই সিদ্ধান্তটির গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের 'সকলের জন্য বাংলাদেশ' বা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নীতির একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই নিয়োগ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে। অভিজ্ঞ একজন সাবেক আমলা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যুক্ত হওয়ায় প্রশাসনিক কাজে নতুন গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটি জোরালো বার্তা পৌঁছাবে।

নিয়োগের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে আনন্দ প্রকাশ করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, বিজন কান্তি সরকারের মতো একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির উপস্থিতি সরকারের সাথে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করবে। তিনি কেবল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের নয়, বরং পুরো জাতির কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করবেন।

জাতীয় জীবনে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা একটি আধুনিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে বিজন কান্তি সরকারের এই সম্ভাব্য নিয়োগ সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি মাইলফলক হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ টিমে যুক্ত হয়ে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কতটা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন।

সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মপরিধিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হতে যাচ্ছে।

এএন