আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে মশক নিয়ন্ত্রণ কারিগরি কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মশক নিধনে নতুন ও অধিক কার্যকর কীটনাশক নির্ধারণ এবং সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, মশক নিধনে ভিন্ন ভিন্ন কীটনাশকের সমন্বিত ব্যবহার (কম্বিনেশন) একাধিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এছাড়া মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।
সভায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে লার্ভিসাইডিংয়ে ব্যবহৃত 'টেমিফস'-এর বিরুদ্ধে বিশ্বের কিছু দেশে মশার প্রতিরোধ ক্ষমতা (রেজিস্টেন্স) তৈরি হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, নোভালিয়ন, ম্যালাথিয়ন ও টেমিফস এই তিনটি কীটনাশকের পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যে 'ম্যালাথিয়ন' তুলনামূলক অধিক কার্যকর। বিকল্প হিসেবে 'বিটিআই' ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফগিং কার্যক্রমের কার্যকারিতা সীমিত হওয়ায় ধীরে ধীরে ফগিং নির্ভরতা কমিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বেনজির আহমেদ মশার প্রজননস্থল ধ্বংস বা 'সোর্স রিডাকশন'-এর ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই সাথে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্রুততম সময়ে কার্যকর কীটনাশক নির্বাচন করে তা প্রয়োগের মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন