বাংলা নববর্ষের প্রথম সকালেই উৎসবের রঙে রাঙা হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ঢোল-বাদ্যের তালে তালে আর বর্ণিল মোটিফের শোভায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত বৈশাখী শোভাযাত্রা, যেখানে মিলেছে হাজারো মানুষের প্রাণের স্পন্দন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয় এই বর্ণিল আয়োজনের। তবে তার আগেই, সকাল ৮টা থেকে চারুকলার প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসবপ্রিয় মানুষ। লাল-সাদা পোশাকে সেজে শিক্ষার্থী, শিক্ষক থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এই প্রাণের মিছিলে।
শোভাযাত্রার প্রতিটি মুহূর্ত যেন একেকটি জীবন্ত শিল্পকর্ম। বাঁশ, কাঠ আর রঙিন কাগজে তৈরি বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর ও মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এবারের মূল বার্তা অশুভ শক্তির বিনাশ আর এক কল্যাণময় আগামীর আহ্বান।
বিশেষভাবে নজর কাড়ছে পাঁচটি প্রতীকী মোটিফ মোরগ, দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে এগুলো তুলে ধরা হয়েছে। লাল ঝুঁটির বিশাল মোরগ কিংবা কাঠের হাতি—প্রতিটি নির্মাণেই ফুটে উঠেছে লোকঐতিহ্যের গভীর ছাপ।
শুধু রঙ আর আনন্দই নয়, নিরাপত্তার বিষয়টিও রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্বে। ক্যাম্পাসজুড়ে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য দেওয়া হয়েছে পরিচয়পত্র বহনের নির্দেশনা। পাশাপাশি মুখোশ, ব্যাগ, ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন ও আতশবাজির ওপর আরোপ করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
সহায়তার জন্য টিএসসি এলাকায় খোলা হয়েছে হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে দোয়েল চত্বর ও কার্জন হলসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ টয়লেট।
উৎসবের আবহকে আরও সমৃদ্ধ করতে চারুকলায় চলছে সাংস্কৃতিক আয়োজনও। লোকসংগীত, নৃত্য আর যাত্রাপালার মঞ্চায়নে নববর্ষকে বরণ করে নিচ্ছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
সব মিলিয়ে, ঢোলের তালে আর রঙের উচ্ছ্বাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ যেন এক বিশাল মিলনমেলা যেখানে নতুন বছরের শুরুটা হয়ে উঠেছে আনন্দ, ঐতিহ্য আর আশার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন