সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক The Daily Sun-এ (৬ ও ৭ মার্চ) এবং ডেইলি সানকে অনুসরণ করে অনলাইন পোর্টাল “চট্টগ্রাম প্রতিদিন”-এ মাস্তুল ফাউন্ডেশন সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, উক্ত প্রতিবেদনে উত্থাপিত তথ্য ও অভিযোগসমূহ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং যথাযথ তথ্যসূত্রবিহীন, যা মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছে। আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে মাস্তুল ফাউন্ডেশন তাদের দাপ্তরিক অবস্থান ও প্রমাণাদিসহ প্রকৃত তথ্য দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করে।
তারা বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’। তাদের প্রতিটি কার্যক্রম সরকারি বিধিমালা এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর আইন মেনে পরিচালিত হয়। ডেইলি সানের প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিভ্রান্তিকর অভিযোগের বিপরীতে তাদের দাপ্তরিক অবস্থান তুলে ধরা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক অনন্য নজির স্থাপন করে তারা প্রতি বছর নিয়মিত অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করে। মাস্তুল ফাউন্ডেশন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) থেকে বিশেষ এসআরও সনদপ্রাপ্ত হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত দান বা যাকাত আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের মতো সংবেদনশীল মানবিক কাজও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি (MRA) কর্তৃক নিবন্ধিত তাদের ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কার্যক্রম সরকারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এবং নির্ধারিত নিয়মাবলীর আওতায় পরিচালিত। ‘কর্জে-হাসানা’ বা সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে ‘ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, যাকাত তহবিল এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কার্যক্রমের প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামো সম্পূর্ণ পৃথক। যাকাতের অর্থ শরীয়াহ নির্ধারিত খাতে ব্যয় হয় এবং অডিট অনুযায়ী এ দুই তহবিলের মধ্যে কোনো অর্থের মিশ্রণ নেই।
প্রতিবছর স্বনামধন্য নিরপেক্ষ অডিট ফার্ম দ্বারা আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করা হয় এবং তা দাতা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়। একই সঙ্গে অডিট রিপোর্ট সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়।
ফিলিস্তিনের গাজা ও সুদানে প্রেরিত মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিধি মেনে সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস থেকেও অর্থ গ্রহণের অফিসিয়াল রসিদ সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদ ‘রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক’ (RJSC) কর্তৃক অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত। পর্ষদের গঠন আইনসম্মত এবং ‘ফ্যামিলি ডমিন্যান্স’ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়।
তারা অভিযোগ করে, সংবাদ প্রকাশের আগে ডেইলি সানের প্রতিবেদকরা তাদের কোনো বক্তব্য নেননি, যা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া প্রতিবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যোগাযোগের ধরনকে অপ্রীতিকর ও হুমকিস্বরূপ বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, সংবাদ প্রকাশের পর তারা ডেইলি সানের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কিছু গণমাধ্যম তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে বলেও দাবি করা হয়।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানায়, এ ধরনের মানহানিকর সংবাদ বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রয়োজনে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
শেষে তারা আশা প্রকাশ করে, ডেইলি সান কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে সংবাদ প্রত্যাহার করবে এবং দেশবাসীকে বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে চলার আহ্বান জানায়।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন