ঈদযাত্রায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
ঈদযাত্রায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার চিরাচরিত দৃশ্য মানেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে জনসমুদ্র, ট্রেনের ছাদে উপচে পড়া ভিড় আর মহাসড়কে মাইলের পর মাইল স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের সারি। তবে এবারের কোরবানির ঈদের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। চিরচেনা সেই ভোগান্তি আর তীব্র যানজটের পরিবর্তে এবার ঈদে স্বস্তি ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। সড়ক, রেল কিংবা নৌপথে এবার ঈদযাত্রায় স্বস্তির সুবাতাস বইছে, সব মিলে পথে পথে যেন চলছে বাড়ি ফেরার উৎসব।

সোমবার সকাল থেকেই ঢাকার প্রধান রেল প্রবেশদ্বার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এবং কোরবানির উৎসবে শামিল হতে স্টেশনে ভিড় জমান হাজারো যাত্রী। তবে এই ভিড়ে ছিল না কোনো হুড়োহুড়ি বা চিরচেনা ভোগান্তি। দু-একটি ট্রেন কিছুটা বিলম্বে ছাড়লেও যাত্রীদের চোখে-মুখে ক্লান্তির চেয়ে বাড়ি ফেরার আনন্দই ছিল বেশি।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে ট্রেনের ছাদে। অতীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে বাড়ি ফেরার যে বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা যেত, এবার তা কঠোরভাবে বন্ধ করা হয়েছে। ট্রেনের ছাদে যেন কেউ উঠতে না পারে, সেজন্য রেল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করেছে। নিরাপত্তারক্ষীদের ট্রেনের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত সতর্ক পাহারা দিতে দেখা গেছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জাকির হোসেন বলেন, গত ঈদে বাড়ি ফিরতে পারিনি। তবে এবার কোরবানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিবার নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি। স্টেশনে এসে দেখলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ ব্যবস্থাপনা রয়েছে। এতে যাত্রা ভালোই হবে বলে মনে হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও ট্রেন ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে ভালো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও রেল কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করার কারণে এবারের যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হচ্ছে।

আজ থেকে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন

রোববার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখেন এবং সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেলমন্ত্রী একটি বড় সুখবর দিয়ে জানান, সোমবার থেকে রেলের বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন। এই বিশেষ ট্রেনগুলো চালু হলে যাত্রীদের যাতায়াত আরও বেশি স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রেলপথের পাশাপাশি রাজধানীর বাস টার্মিনাল এবং লঞ্চঘাটগুলোতেও যাত্রীদের উপচে পড়া চাপ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত যানবাহন ও বিশেষ ট্রেনের সুব্যবস্থা থাকায় এবারের যাত্রাপথ বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি স্বাভাবিক।

সবচেয়ে বড় স্বস্তি এসেছে মহাসড়কগুলোতে। অন্যান্য বছর যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হতো, এবার সেখানে বড় কোনো যানজটের খবর মেলেনি। ফলে নির্বিঘ্নে, সঠিক সময়েই গাড়িগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে।

বিগত কয়েক বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর এবারের এই সুশৃঙ্খল ঈদযাত্রা সাধারণ মানুষের ক্লান্তি দূর করে মনে এনে দিয়েছে ঈদের প্রকৃত আনন্দ। ঘরমুখো যাত্রীরা বলছেন, বিশেষ করে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট না থাকায় পরিবার নিয়ে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে বাড়ি ফেরা সম্ভব হচ্ছে। সব পথ মিশে যাচ্ছে নাড়ির টানে, প্রিয়জনদের হাসিমুখের ঠিকানায়।

জেএইচআর