দীর্ঘ লাইনে নিরাপত্তা পেরিয়ে জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের ঢল

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ০৯:১২ এএম
দীর্ঘ লাইনে নিরাপত্তা পেরিয়ে জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের ঢল

ত্যাগ, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে দেশের প্রধান ঈদের জামাত।

নামাজ আদায় করতে ভোর থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা জাতীয় ঈদগাহে আসতে শুরু করেছেন। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রবেশ করছেন তারা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠছে মুসল্লিদের পদচারণায়।

সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক দিয়ে দীর্ঘ সারিতে মুসল্লিরা ঈদগাহে প্রবেশ করছেন। একই চিত্র দেখা গেছে মৎস্য ভবন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রবেশপথেও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তবেই মুসল্লিদের ভেতরে প্রবেশ করাচ্ছেন।

ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিতে সব বয়সী মানুষের ঢল নেমেছে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ একাই এসেছেন জাতীয় ঈদগাহে। আরামবাগ থেকে আসা মুসল্লি সাইফুজ্জামান বলেন, ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিতে ফজরের পরই বাসা থেকে বের হয়েছি। হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে নামাজ আদায়ের অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। প্রতি বছরই চেষ্টা করি জাতীয় ঈদগাহে আসতে। এখানে এলে ঈদের আনন্দটা আরও বেশি অনুভব হয়।

বংশাল থেকে ছোট ছেলেকে নিয়ে ঈদগাহে এসেছেন আল আমিন। ছেলের হাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে ঈদগাহে আসার স্মৃতি এখনো মনে আছে। এখন নিজের ছেলেকে নিয়ে এসে সেই একই অনুভূতি পাচ্ছি। চাই, সেও ছোটবেলা থেকে ঈদের এই বড় জামাত আর মিলনমেলার পরিবেশটা অনুভব করুক।

জাতীয় ঈদগাহের এই প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই জামাতে শামিল হবেন।

এবারের প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। বিকল্প ইমাম হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারীকে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রায় ৩৩ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই ঈদগাহে মূল প্যান্ডেলের আয়তন ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আশপাশের সড়কেও মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারবেন।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, এবার জাতীয় ঈদগাহে ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের জন্য পৃথক কাতার রাখা হয়েছে। প্রায় ২৫০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ৮০ জন নারীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও সাড়ে ৩ হাজার নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা প্রবেশপথ ও নির্ধারিত নামাজের স্থান। ঈদগাহে পর্যাপ্ত অজুখানা, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা, ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।

এদিকে জাতীয় ঈদগাহের পাশাপাশি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাতগুলো যথাক্রমে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

জেএইচআর