বিশ্ব মহাসাগর দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় অধিদপ্তরের পরিচালক, উপপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাসাগরবিদ্যা বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার বিভাগ এবং ভূ ও মহাসাগর বিজ্ঞান অনুষদ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগ, পাশাপাশি সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকারী ট্রলার ও আর্টিসানাল নৌযান সংগঠনের প্রতিনিধি, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী ও বিশেষজ্ঞ (ফাইলেপ প্রকল্প), আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ল্ডফিশ-এর প্রতিনিধিরা।
মূল কারিগরি উপস্থাপনা প্রদান করেন মৎস্য অধিদপ্তরের ব্লু-ইকোনমি শাখার উপপরিচালক ড. মুহাম্মদ তানভীর হোসেন চৌধুরী, সহকারী পরিচালক (মেরিন) ড. মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন এবং ফিশনেট প্রকল্পের প্রতিনিধি জনাব আরিফুজ্জামান। উপস্থাপনায় বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ, নীল অর্থনীতি, সামুদ্রিক গবেষণার বর্তমান অবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
ফিশনেট প্রকল্পের প্রতিনিধি জানান, প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জলজ ও উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থা- তেরাবেকা খাল, চর বিজয়, খালগোড়া খাল, সকিনা খাল, রায়েন্দা খাল, পৌরঘাটলা খাল এবং বগিরদোনা খাল- চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকাকে ও ই সি এম (অন্য কার্যকর অঞ্চলভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা) ঘোষণার আওতায় আনার জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, গভীর সমুদ্র মৎস্যসম্পদ অনুসন্ধান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নীল অর্থনীতি বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
তারা আরও বলেন, দেশের সমুদ্রসীমা খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, বিশ্ব মহাসাগর দিবস-২০২৬ সমুদ্রসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের সমন্বয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম চালু রয়েছে, যা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনায় তরুণ গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানটি ফিশনেট প্রকল্পের সার্বিক সহযোগিতায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন