পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

যেকোনো দেশে সফরের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশই নেবে, অন্য কেউ নয়

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ১২:৩২ এএম
যেকোনো দেশে সফরের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশই নেবে, অন্য কেউ নয়

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে বা কোথায় সফরে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত দেশের সরকারই নেবে। অন্য কেউ নয়।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন ও মালয়েশিয়া সফর নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনেই বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা ভারত-যেখানেই দেশের প্রয়োজন হবে, সেখানেই যোগাযোগ ও সফর করা হবে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে বাইরের কোনো পক্ষের ভূমিকা থাকবে না। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং বৈধ ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রধান অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, জনগণের শক্তিশালী সমর্থন থাকায় সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আলোচনা ও দর-কষাকষি করতে পারছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ‘কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রগ্রেসিভ অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ’ বা সিপিটিপিপি বাজারে প্রবেশের বিষয়েও আগ্রহী। এসব বিষয় সফরকালে আলোচনার অংশ হতে পারে।

হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক পরিসরে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। কূটনীতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং নরম শক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চলছে। তবে সব ক্ষেত্রেই জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সফরসঙ্গী প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দলে ২৭ জন এবং চীন সফরে ২৮ জন সদস্য থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যে দেশে যাদের প্রয়োজন, শুধু তারাই সফরে অংশ নেবেন। অপ্রয়োজনীয় বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে সফরের প্রচলন থেকে সরে এসে এখন ব্যয়ের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এম জি