১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড গণহত্যার সামিল: শেখ পরশ

মো. মাসুম বিল্লাহ প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২২, ০৬:২২ পিএম
১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড গণহত্যার সামিল: শেখ পরশ

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, শোকের মাস আগস্ট। এই মাসে বাংলার ইতিহাসে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট, নেক্কারজনক এবং জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর। সেই হত্যাকাণ্ড থেকে পরিত্রাণ পায়নি ৪ বছরের শিশু সুকান্ত বাবু, ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল ও আরিফ সেরনিয়াবাত। রক্ষা পায় নাই মহিয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধু আমার মা আরজু মণি সেরনিয়াবাতসহ নিরীহ অবলা নারী সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। এদিক দিয়ে বিচার করলে এই হত্যাকাণ্ড গণহত্যার সামিল। কারণ সেদিন নারী-শিশু নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল।

সোমবার (১ আগস্ট) ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোকের মাস আগস্ট মাসব্যাপী কোরআন খতম, দোয়া ও অসহায়-দুস্থদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ কার্যক্রমসহ আগস্ট মাসব্যাপী গৃহীত কর্মসূচির প্রারম্ভিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এই হত্যাকা ছিল সুদূরপ্রসারী এক পরিকল্পিত উল্লেখ করে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতার সূর্য সম্পূর্ণরূপে উদিত হওয়ার পূর্বেই আকস্মিকভাবে অস্তমিত করা হয়েছিল। নস্যাৎ করা হয়েছিল বাঙালির দুই শতাধিক বছরের স্বাধীনতার আকাঙ্খা। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শত্রুরা প্রতিশোধ নিয়েছিল বাঙালি জাতির উপর। এই হত্যাকা- ছিল ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীতাকারী দেশি-বিদেশী পরাজিত শক্তির প্রতিশোধ। 
তিনি আরও বলেন,  ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে পশ্চিম পাকিস্তানীরা ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করেও ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে মামলাটি প্রত্যাহারে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাধ্য হয়। ৭১ সালেও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় পাকিস্তানীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার চেষ্টা করে কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ইন্দো-সোভিয়েত অংশ বাংলাদেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আমরা মহান স্বাধীনতা অর্জন করি। পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে পুননির্মাণ এবং সোনার বাংলায় পরিণত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে শুরু করেন। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হয় মিথ্যা অপপ্রচার বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী অশুভচক্র ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরাই অবশেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের অন্ধকারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা কোন সাধারণ হত্যাকাণ্ড ছিল না। এই মহান নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল একাধিক অশুভ উদ্দেশ্য সাধণের লক্ষ্যে। প্রথমত, অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি; দ্বিতীয়ত তারা বাংলাশেকে স্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করা মেনে নিতে পারেনি; তারা পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক সংবিধান প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের জন্য একটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান প্রণয়ন মেনে নিতে পারেনি এবং সর্বশেষে দক্ষিণ এশিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো জাতীয়তাবাদী নেতার উত্থান এবং বিশ্ব নেতা হয়ে ওঠা তারা মেনে নিতে পারে নাই। তাই নব্য স্বাধীন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্যবস্ততে পরিণত হয়। 

তিনি আরও বলেন,বঙ্গবন্ধু হত্যার পরবর্তী ইতিহাস এবং পরিক্রমা আপনাদের সবারই জানা। এর পরে শুরু হয়েছিল, রাজাকারদের পুনর্বাসন, পুনরাবৃত্তি ঘটান হয়েছিল বাঙালি জাতির উপর মিলিটারি দুঃশাসন, হত্যা করা হয়েছিল গণতন্ত্র, হত্যা করা হয়েছিল শত শত সামরিক ও বেসামরিক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। ক্যান্টনমেন্টে বাক্সবন্দী করা হয়েছিল মানুষের মৌলিক ও ন্যায্য অধিকার। পুনরায় এদেশের মানুষকে পরাধীনতার শিকলে বন্দি করা হয়েছিল। চরম অবমাননা, বঞ্চনা ও উপহাস করা হয়েছিল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের প্রতি। ২১ বছর ধরে অন্ধকার নেমে এসেছিল এদেশের মানুষের ভাগ্যের আকাশে। ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নরপিশাচরূপি খুনিরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙারি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্কের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এ বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়। বাংলাদেশের সৌভাগ্য যে, স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা হিসেব বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরসুরী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পাওয়া। তিনি প্রতিক্রিয়াশীল স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২১ বছর সংগ্রাম করে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১৯৯৬ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের বাধা দূর করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচারের রায় ঘোষণা হলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় এসে সে রায় কার্যকর হতে দেয়নি। জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে আবারো সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করলে আবার শুরু হয় প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১০ সালে ঘাতকদের কয়েকজনের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু অভিযুক্তদের কেউ কেউ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকায় বিচারের রায় আংশিক কার্যকর হয়।

যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, আগস্ট মাস শোকের মাস। বাঙালি জাতির জন্য একটি কলঙ্কের মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ফজরের নাজামের জন্য মসজিদে মুয়াজ্জিন যখন আযান দেয়, মুসলমানরা যখন ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য প্রস্তুতি নেয়, তখন বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য গুলি চালিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। তারা হত্যা করেছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুজিব বাহিনীর প্রধান, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণিকে। এই হত্যাকাণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত। আগস্ট মাস বাংলার মানুষের জন্য দুঃখের মাস।

তিনি বলেন, জামাত-বিএনপি তথা কালনাগিনী খালেদা জিয়া ও তার কুলাঙ্গার সন্তান তারেকের জন্য আনন্দের মাস। কারণ তারা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট এই ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় আমাদের প্রিয় নেত্রী, মানবতার নেত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। আবার ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট তারা সারাদেশে একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছিল। এই আগস্ট মাসকে সামনে রেখে বিনা কারণে, বিনা উস্কানিতে ভোলায় পুলিশের উপর তারা হামলা চালিয়েছে। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে প্রমাণ করতে চায়। তারা আরেকটি ১৫ আগস্ট সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু যুবলীগের একজন নেতা-কর্মী বেঁচে থাকতে তাদের এই আশা কোন দিন পুরণ হবে না। তিনি যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন-এই বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য যুবলীগের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর আলম শাহীন, ডাঃ খালেদ শওকত আলী, মোঃ হাবিবুর রহমান পবন, মোঃ নবী নেওয়াজ, মোঃ এনামুল হক খান, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল কান্তি জোয়াদ্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, মোঃ জসিম মাতুব্বর, মোঃ আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মুহা: বদিউল আলম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোঃ মাজহারুল ইসলাম, ডা. হেলাল উদ্দিন, মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ, মোঃ জহির উদ্দিন খসরু, মোঃ সোহেল পারভেজ, আবু মুনির মোঃ সহিদুল হক চৌধুরী রাসেল, মশিউর রহমান চপল, অ্যাড. ড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।


ইএফ