নোমান

নির্যাতন-নিপীড়নে বিএনপির আন্দোলন দমবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৪, ০৭:৩২ পিএম
নির্যাতন-নিপীড়নে বিএনপির আন্দোলন দমবে না

বিএনপির আন্দোলন নতুনরুপে এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, এই স্বৈর সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। শত নির্যাতন-নিপীড়নে আন্দোলন দমাতে পারবে না। আজকে এই ইফতার মাহফিলে নেতাকর্মীদের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতিই সেটা প্রমাণ করে। এই আন্দোলনে তরুণ-যুবকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা থেমে যাবো না। আরও সুসংগঠিত হয়ে লড়াই চালিয়ে যাবো এবং আন্দোলন আরও জোরদার হবে। নির্যাতিত জনগণের স্লোগানই হচ্ছে- ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’। ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে অধিকার আদায় করবোই করবো। কারণ আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। তার আদর্শকে ধারণ করেই আমাদের লড়াইয়ের নবদিগন্তের সূচনা হয়েছে। এই লড়াইয়ে জনগণই জিতবে। জনগণ জিতলে বিএনপিই জিতবে। আমরা বিজয়ের মুখোমুখি। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা এলাকায় এলাকায় প্রত্যেক ওয়ার্ডে ইফতার মাহফিল করছি। এটা অব্যাহত থাকবে। আমরা এগিয়ে যাবো। দেশে দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী। এখান থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিকল্প নেই। যেমন ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা একাত্তর সালে লড়াই করেছিলাম সেই রকম আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ে শামিল হবো ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় এই অনুষ্ঠান হয়। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টনের উদ্যোগে ও সহযোগিতায় চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীদের নিয়ে এই দোয়া ও ইফতার মাহফিল হয়। চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহরের গ্র্যান্ড তাসফিয়া কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ইফতারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন এবং স্থানীয় হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের আগে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের সকল নেতাকর্মীর জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন প্রধান বক্তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কঠিন সঙ্কটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশি জাতিকে পরাধীন করে বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার ত্রাস বা রাজত্ব কায়েম করেছে। যে উদ্দেশ্যে ৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল তা জলাঞ্জলি ও পদদলিত করে আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গত ৭ জানুয়ারি দেশে নির্বাচনের নামে নাটক মঞ্চস্থ করেছে। তারা ভেবেছে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকবে। মানুষের লাশ ফেলে, গুম খুনের মাধ্যমে ও লুট করে দেশে রাজত্ব করবে। আমাদেরকে নতুনভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে যে, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে একটি কালো থাবার হাত থেকে উদ্ধার করে জনগণকে মুক্ত করবো। 

ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে নেতৃত্বে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে দেশের জনগণ। এই সরকার সারাদেশে গ্রামে গঞ্জে আমাদের মা-বোনদের পর্যন্ত নির্যাতন করেছে। যারা রাজনীতি করেন না এমন লোকজনকেও ধরে মিথ্যা মামলায় জেল ও রিমান্ডে নিয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ বাহিনী সাধারণ নিরীহ জনগণকে গুলি চালিয়ে হত্যাকরেছে। তবুও আমরা হেরে যাইনি। হাল ছেড়ে দেইনি। 

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাইকে নিয়েই নিজেদের অধিকার আদায় করতে হলে জনগণের জন্য যত ত্যাগ স্বীকার করা দরকার, রক্ত দেওয়া দরকার সব মেনে নেব। রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে এই সরকারকে পতন ঘটাবো। কেননা, একাত্তরের বাংলাদেশ আজ আর নেই। তাই প্রতিবাদের মাধ্যমে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা থেমে থাকতে পারিনা। স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখবো। সেজন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তবেই ফ্যাসিবাদী সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হবে। আমরা তাদের কাছে দেশকে ছেড়ে দিতে পারি না। আমরা হতাশ হবো না, নিরাশ হবো না। জোর করে ক্ষমতা দখল করা যায়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় না।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রত্যেকটি নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো হবে। কারণ এই সরকার দেশ-বিদেশে সর্বত্র প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাদের হাতে সময় বেশি নেই।

আরএস