তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: রাজধানীতে জনস্রোত ও নতুন মাত্রা

বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ১১:৪৫ এএম
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: রাজধানীতে জনস্রোত ও নতুন মাত্রা

দীর্ঘ নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় সৃষ্টি হয়েছে এক ভিন্ন রাজনৈতিক আবহ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী। দলীয় পতাকা, ব্যানার, প্লাকার্ড ও ফুল হাতে তাঁরা অবস্থান নেন সড়কের দুই পাশে, যা কার্যত রূপ নেয় জনসমুদ্রে।

ভোরের আলো ফোটার আগেই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা বিমানবন্দর সড়কের পাশে অবস্থান নিতে শুরু করেন। তাঁদের কণ্ঠে শোনা যায় নানা স্লোগান যেগুলোতে ছিল আবেগ, প্রত্যাশা ও দীর্ঘ অপেক্ষার প্রতিফলন। ‘নেতা ফিরেছে, দেশ বাঁচবে’, ‘তারেক রহমান, বাংলার আশা’ এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতা-কর্মীরা খিলক্ষেত থেকে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান নেন। এই সড়কপথ দিয়েই তারেক রহমানের গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছানোর কথা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও হাজার হাজার নেতা-কর্মী ঢাকায় এসে পৌঁছান আগের রাতেই।

জনসমাগমকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর ছিল রাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনী। বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। মূল সড়কে যাতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নেতা-কর্মীদের নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান করতে অনুরোধ করে এবং প্রয়োজনে সরিয়েও দেয়।

বিমানবন্দরের ৮ নম্বর ফটক থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। তবে বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি বিএনপির জন্য এক ধরনের আবেগঘন অধ্যায় হয়ে উঠেছে। প্রায় দুই দশক দেশের বাইরে অবস্থানের পর তাঁর ফিরে আসাকে দলটির নেতা-কর্মীরা দেখছেন নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা হিসেবে। অনেকের চোখে এটি ‘দল পুনর্গঠন ও আন্দোলনের নতুন অধ্যায়’-এর ইঙ্গিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে এটি বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল ও আন্দোলনের গতিপথেও পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তা দলটির অভ্যন্তরীণ সংহতি জোরদার করবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সেখানে মানুষের ঢল নামে। মঞ্চ, মাইকিং, ব্যানার ও পোস্টারে সাজানো হয় পুরো এলাকা। দলীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন। নারী ও তরুণদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন নেতার দেশে ফেরা নয় এটি বিএনপির রাজনীতিতে একটি প্রতীকী মুহূর্ত। দীর্ঘ সময় ধরে দলটির নেতা-কর্মীরা যে নেতৃত্বশূন্যতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছেন, তার অবসান ঘটবে এমন প্রত্যাশাই প্রকাশ পাচ্ছে তাঁদের বক্তব্য ও স্লোগানে।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজধানীর সড়কগুলোতে যে জনজোয়ার দেখা গেছে, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আগামী দিনগুলোতে এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যায়, সে দিকেই এখন নজর সবার।

জেএইচআর