আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন মুশফিক উস সালেহীন। তিনি দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেল সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগপত্রে মুশফিক উস সালেহীন উল্লেখ করেন, তিনি দলের যুগ্ম সদস্যসচিব, কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য, মিডিয়া সেল সম্পাদক এবং পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ উইংয়ের কো-লিড হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তবে সম্প্রতি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা তিনি নীতিগতভাবে মেনে নিতে পারছেন না।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এনসিপির ১১ দলীয় জোটে যোগদান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক রাষ্ট্র নির্মাণের রাজনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মুশফিক আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভোটের রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে লাভজনক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে একটি মধ্যপন্থী ও আত্মনির্ভরশীল দল হিসেবে এনসিপির গড়ে ওঠার সম্ভাবনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
তিনি জানান, এই জোট প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তিনি ইতিপূর্বে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিলেন এবং স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন। তিনি বরাবরই এককভাবে অথবা সংস্কারপন্থী দলগুলোর সঙ্গে মিলে তৃতীয় জোট গঠনের পক্ষে ছিলেন। চিঠিতে দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুশফিক উস সালেহীন।
তিনি অভিযোগ করেন, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা রয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় পদে থাকা তাঁর নৈতিক বিশ্বাস ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর এই সিদ্ধান্ত একান্তই রাজনৈতিক এবং তিনি দলের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবেই থাকতে চান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুশফিক উস সালেহীন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি আহ্বায়ক বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়েছি।’
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন