আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরগুনা ২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনের সমীকরণ ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
রোববার রাতে বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ফুলতলা বিকাশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সুলতান আহমেদ দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র এখন জামায়াতে ইসলামীর ওপর নির্ভর করছে।
ভূ-রাজনীতির পরিবর্তন ও জামায়াত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান আহমেদ এক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো পৃথিবীর কোনো দেশে ইসলামি ধারার সরকার চায়নি। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র এখন চায় বাংলাদেশে একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে তারা জামায়াতে ইসলামীকে কেন্দ্র করেই তাদের বর্তমান রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ সাজাচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, যারা রাজনীতি সচেতন তারা বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলেই এই পরিবর্তনের আলামত বুঝতে পারবেন। তাঁর মতে, শুধু দেশবাসী নয়, গোটা বিশ্বই এবারের নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণ বা মাইলফলক হিসেবে দেখছে।
অতীতের নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক সংকট বিগত বছরগুলোর নির্বাচনী ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে সুলতান আহমেদ বলেন, গত ১৫-১৮ বছর তো বটেই, এমনকি তার আগেরও দু-চারটি নির্বাচন ছাড়া বাকি সব ছিল স্রেফ ভাঁওতাবাজি। গণতন্ত্রের নামে দেশে ভণ্ডামি, প্রতারণা এবং লাঠিয়াল বাহিনীর দৌরাত্ম্য চলেছে। ব্যালট বাক্স দখল আর মারামারির কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচন যদি সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়, তবে বিশ্ববাসী দেখবে যে বাংলাদেশের মানুষ সত্যিকার অর্থেই একটি সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উপহার দিতে সক্ষম।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রসঙ্গে দাবি পরবর্তীতে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সুলতান আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব এখন একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চায়। আর এই মুহূর্তে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে জামায়াত ছাড়া আর কোনো বিকল্প শক্তি তাদের সামনে নেই। জামায়াতের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কারণেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আনাগোনা এখন আমাদের অফিসে বেড়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, আজকেও আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রকৃত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতিমুক্ত শাসন জরুরি, আর সেই লক্ষ্যে জামায়াতকে সামনে রেখেই তারা অগ্রসর হতে চাইছে।
জনসভায় জনস্রোত ফুলতলা বিকাশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের এই জনসভায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনোযোগ দিয়ে সুলতান আহমেদের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণের এই নতুন বয়ান শোনেন। প্রার্থীর এমন সাহসী ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সমৃদ্ধ বক্তব্য এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন