গণতন্ত্রের উৎসবে যখন সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা, তখন ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে অনিয়ম আর বাধার অভিযোগে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে নির্বাচনী প্রতিনিধিদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি গণমাধ্যমের সামনে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং একে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন।
সকাল থেকেই ঢাকা-৯ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রতিনিধিদের ঢুকতে না দেওয়া এবং যারা ঢুকেছিলেন, তাদের কৌশলে বের করে দেওয়ার খবর আসতে থাকে। খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাসনিম জারা সরাসরি অভিযোগ করেন যে, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁর নির্বাচনী প্রতিনিধিদের কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের অত্যন্ত প্রতিকূল এবং জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বিভিন্ন মনগড়া ও বানোয়াট অজুহাত দেখিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে অথবা বের করে দেওয়া হচ্ছে।
তাসনিম জারা আরও অভিযোগ করেন যে নির্বাচনী বিধিমালায় নেই, এমন সব নিয়ম হঠাৎ করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন অযৌক্তিক বাধার উদাহরণ টেনে ধরেন। তাঁর মতে, প্রতিনিধিদের সরাতে তিনটি অদ্ভুত যুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
অনেক প্রতিনিধিকে বলা হচ্ছে তারা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার নন, তাই তারা সেখানে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। অথচ নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, পোলিং এজেন্ট বা নির্বাচনী প্রতিনিধি হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
এছাড়া পুরুষ ভোটকেন্দ্রে কেন নারী প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, এই অজুহাতে নারী প্রতিনিধিদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তাসনিম জারার মতে এটি সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। পাশাপাশি মুঠোফোন নিয়ে ঢোকা যাবে না, অথবা ফোন ব্যবহার করা যাবে না, এমন সব দ্বিমুখী নির্দেশ দিয়ে প্রতিনিধিদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং তাদের মানসিকভাবে চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে ঢাকা-৯ এর দিকে নজর ছিল সারা দেশের।
একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী যখন মাঠ পর্যায়ে এমন বাধার সম্মুখীন হন, তখন সামগ্রিক নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাসনিম জারার অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা ভোটারদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাতে পারে। সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে এসে দেখছেন তাদের পছন্দের প্রার্থীর প্রতিনিধিরা কেন্দ্রে নেই। এতে করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। তাসনিম জারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিয়মের বাইরে গিয়ে এভাবে প্রতিনিধিদের বের করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাসনিম জারা খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে জানান যে তিনি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে ভোটাররা যদি শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে আসতে পারেন এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তবে ফলাফল অন্যরকম হতে পারে। তবে নির্বাচনী প্রতিনিধিদের সুরক্ষা না দিতে পারলে ভোটের দিন মাঠ পর্যায়ে সমতা বজায় রাখা অসম্ভব। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রার্থীর প্রতিনিধির ভূমিকা অপরিহার্য, কারণ তারা প্রার্থীর চোখ হিসেবে কাজ করেন।
ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে জাল ভোট প্রতিরোধে প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তাসনিম জারার অভিযোগ অনুযায়ী যদি প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে নির্বাচনী ফলাফলের বৈধতা সংকটে পড়তে পারে। ঢাকা-৯ আসনের এই পরিস্থিতি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয় যে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না। তাসনিম জারা লড়াইয়ে টিকে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও বর্তমান প্রেক্ষাপট তাঁর ও তাঁর সমর্থকদের জন্য এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন