জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদ গণভোটের রায় মেনে নিক বা না নিক, জনগণের শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই এই রায় বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জনগণের সুপ্রিম ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়েছি এবং দেখিয়ে যাব। এই সংসদ মানুক আর না মানুক, গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব। জনগণের শক্তি নিয়েই আমরা আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।”
তিনি অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে জনগণের দাবির আন্দোলনের মাধ্যমে অনেক কিছুই অর্জিত হয়েছে। কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থাও সহজে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমেই তা আদায় করতে হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রথমে সংসদের ভেতরে থেকেই সমাধান চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম গঠনমূলক ও ইতিবাচক বিতর্কের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটুক। কিন্তু সংসদ আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমরা আবার জনগণের কাছেই ফিরে গেছি।”
বিরোধী দলীয় নেতা জানান, ইতোমধ্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং এটিই বৃহত্তর আন্দোলনের সূচনা। তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং দেশের আঠারো কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য।
সরকারের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, সরকার দাবি করছে তেলের মজুত আগের চেয়ে বেশি, কিন্তু বাস্তবে জনগণ তেলের অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, “যদি মজুত বেশি থাকে তাহলে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দূর করা হচ্ছে না কেন? কেন জনগণকে কষ্ট পেতে হচ্ছে?”
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ যানজটের কারণে তার নিজের গাড়ির জ্বালানিও প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
কৃষি খাতে জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, সেচ মৌসুমে ডিজেলের অভাবে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন, অনেকেই সেচ দিতে পারছেন না। পাম্প থেকে জ্বালানি নিতে গেলে কার্ডের শর্ত দেওয়ায় আরও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
তার ভাষায়, “এভাবে চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং দেশ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে।”
তিনি ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ টেনে সতর্ক করে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জনগণকে কথা দিচ্ছি, সংসদে আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া ৭৭ জন সদস্য জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার থাকবে। আমরা যেমন জনগণের অধিকার পাহারা দেব, তেমনি সংসদের ভেতরেও যেন জাতির ভাগ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অন্যায় না হয় সেদিকেও নজর রাখব।”
তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন