রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় এখন মুখর নারী নেত্রীদের পদচারণায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনে দ্বিতীয় দিনের মতো মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শনিবার এই মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাক্ষাৎকার গ্রহণের নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর ৩টা। তবে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নারী নেত্রীদের ভিড়ে গুলশান এলাকা এক উৎসবের আমেজ ধারণ করে। বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও আগামী দিনের পরিকল্পনার ফাইল হাতে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। প্রবেশের জন্য প্রত্যেককে বিশেষ পরিচয়পত্র বা ‘কার্ড’ সংগ্রহ করতে হয়েছে।
সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে কার্যালয় প্রাঙ্গণে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। কেউ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে নিজ প্রিয় নেত্রীর পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন, আবার কেউ দলের নীতিনির্ধারকদের নজর কাড়তে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন।
দুই দিনব্যাপী এই সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার আজ ছিল সমাপনী দিন। দ্বিতীয় দিনে মূলত দেশের বৃহত্তর পাঁচটি বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ডাকা হয়েছিল। বিভাগগুলো হলো- ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ।
এর আগে প্রথম দিনে অন্যান্য বিভাগের কয়েক শ’ নেত্রীর সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়েছে। বোর্ড সদস্যরা প্রার্থীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের দুঃসময়ে ভূমিকা এবং নিজ এলাকার সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই করছেন।
সাক্ষাৎকার বোর্ডে প্রবেশের আগে অনেক নেত্রী গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন। তাদের কণ্ঠে ছিল দলের প্রতি আনুগত্য এবং দেশ গঠনের অঙ্গীকার। ঢাকা বিভাগ থেকে আসা এক নেত্রী বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে রাজপথে লড়াই করেছি, মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। দল যোগ্য মনে করলে সংসদে নারীদের অধিকার আদায়ে কণ্ঠ সোচ্চার রাখব।চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আসা অপর এক প্রার্থী জানান, তিনি নারী শিক্ষা ও তৃণমূলের নারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করতে চান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রির সংখ্যা ছিল আকাশচুম্বী। মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত জমা পড়েছে প্রায় ৯০০টি।
প্রতিটি মনোনয়ন ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীকে জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। জাতীয় সংসদের মোট ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে বিএনপি জোটের ভাগে পড়ছে ৩৬টি আসন। এছাড়া জোটের অন্য শরিক জামায়াতে ইসলামীর জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য একটি আসন বরাদ্দ রয়েছে।
এবারের মনোনয়ন বোর্ডে সভাপতিত্ব করছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভিডিও কনফারেন্সিং বা সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি প্রার্থীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
বিএনপি সূত্রমতে, এই বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর মধ্য থেকে মাত্র ৩৬ জনকে বেছে নেওয়া একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে দলের প্রতি ত্যাগী, শিক্ষিত এবং সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমন নেত্রীদেরই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
দেড় দশকের ব্যবধানে ক্ষমতায় ফেরার পর এটিই বিএনপির প্রথম সংরক্ষিত আসনে প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া। তাই এই নির্বাচনকে ঘিরে দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। সংরক্ষিত আসনের এই নারী সংসদ সদস্যরা আগামী পাঁচ বছর সরকারের নীতি নির্ধারণে এবং নারী ক্ষমতায়নে কী ভূমিকা রাখেন, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন