ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ফাহমিদা হক। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তার স্বামী, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও টকশো উপস্থাপক জিল্লুর রহমান।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ফাহমিদা হকের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা ও জনপরিসরে সক্রিয় অংশগ্রহণেরই ধারাবাহিকতা।
‘তৃতীয় মাত্রা’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে পরিচিত এই সাংবাদিক জানান, তার স্ত্রী বহুদিন ধরেই লেখালেখি, সামাজিক উদ্যোগ এবং নীতিনির্ধারণ বিষয়ক আলোচনায় যুক্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক আগ্রহ গড়ে উঠেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ফাহমিদা হক সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।
নিজের পেশাগত অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট বক্তব্য দেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা, কলাম লেখা, টকশো উপস্থাপনা এবং একটি নীতি-গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব, সবকিছুই তার দীর্ঘদিনের স্বাধীন পেশাগত যাত্রার অংশ। এই অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একই পরিবারের সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন জনভূমিকা পালন করতে পারেন, তবে পেশাগত সততা অবশ্যই স্বাধীন থাকতে হবে। বস্তুনিষ্ঠতা ও ন্যায়পরায়ণতার নীতিতে তিনি ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাবেন।
এর আগে সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের নেতা রুহুল কবির রিজভী। সেই তালিকায় ফাহমিদা হকের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে এ মনোনয়ন ঘিরে দলের ভেতরেই কিছু প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, ফাহমিদা হক দলের সক্রিয় রাজনীতিতে দৃশ্যমান ছিলেন না এবং তিনি মূলত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
এই সমালোচনার জবাবে ফাহমিদা হক বলেন, তার ব্যক্তিগত পরিচয় আলাদা। নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় তার গ্রামের বাড়ি হলেও তিনি ঢাকায় বড় হয়েছেন। তিনি জানান, নিজের পরিচয়ে বাবার নাম ব্যবহার করেছেন, স্বামীর পরিচয় সামনে আনেননি।
উল্লেখ্য, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জিল্লুর রহমান, আর ফাহমিদা হক একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও যুক্ত আছেন। সেই সাংগঠনিক ভূমিকার ভিত্তিতেই তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন