শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হতাশাজনক হারের পর এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পথ প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। কাগজে-কলমে টিকে থাকার ক্ষীণ সম্ভাবনাটুকুও অনেকেই গুরুত্ব দেননি। তবে ক্রিকেট তো অনিশ্চয়তার খেলা—আর সেই অনিশ্চয়তাকেই সম্ভব করে দেখাল লিটন দাসের বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্টে টিকে থাকার ম্যাচে শক্তিশালী আফগানিস্তানকে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে ৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
এই জয়ে গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে উঠে এসেছে টাইগাররা। এখন বাংলাদেশের চোখ ১৮ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে। সে ম্যাচে আফগানিস্তান হারলেই সরাসরি সুপার ফোরে যাবে বাংলাদেশ। আর আফগানরা জিতলে পড়তে হবে রানরেটের জটিল হিসাব-নিকাশে।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ১৫৫ রানের টার্গেট তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। একাদশে ফেরা স্পিনার নাসুম আহমেদ ইনিংসের প্রথম বলেই সেদিকউল্লাহ আতালকে এলবিডব্লিউ করেন।
পাওয়ার প্লেতে আফগানরা দুই উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ২৭ রান। এরপর গুলবাদিন নাইব ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি বেশিক্ষণ টেকেনি। গুলবাদিনকে ফেরান রিশাদ হোসেন, পরে একই বোলারের শিকার হন গুরবাজও।
শেষদিকে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ঝড় তোলার চেষ্টা করলেও তা বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি। ১৬ বলে ৩০ রান করে ফিরলে আফগানদের লড়াই কার্যত শেষ হয়ে যায়। নির্ধারিত ওভারে আফগানিস্তান থামে ১৪৬ রানে।
বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান। সমান দুটি করে উইকেট পান নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে তোলে ১৫৪ রান।
ওপেনিং জুটিতে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান ৪০ বলে ৬৩ রান যোগ করেন। ২৬ বলে ২৯ রান করে আউট হন সাইফ। অধিনায়ক লিটন দাস ব্যর্থ হন (১১ বলে ৯)।
তবে তানজিদ দারুণ খেলেন। মাত্র ২৮ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের সপ্তম ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৫২ রান করে ফেরেন তিনি।
শেষদিকে তাওহিদ হৃদয় ২০ বলে ২৬, জাকের আলী ১৩ বলে ১২ এবং নুরুল হাসান সোহান ৬ বলে অপরাজিত ১২ রান করেন।
আফগানিস্তানের হয়ে নূর আহমেদ ও রশিদ খান ২টি করে উইকেট নেন, একটি উইকেট পেয়েছেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
এই জয়ে বাংলাদেশের সুপার ফোরের স্বপ্ন জিইয়ে থাকল। এখন শুধু অপেক্ষা ১৮ সেপ্টেম্বরের ম্যাচের ফলাফলের দিকে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন