দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি

আবারও হার, সিরিজ হাতছাড়া বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ০৯:৪৬ পিএম
আবারও হার, সিরিজ হাতছাড়া বাংলাদেশের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টিতেও জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ। ১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লিটন দাসের দল থেমেছে ১৩৫ রানে, হার ১৪ রানের ব্যবধানে। এই পরাজয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই দুই ম্যাচের সিরিজ হার নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।

প্রথম ম্যাচে ১৬ রানে হারার পর সমতায় ফেরার লড়াই ছিল এদিন, কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতা ও মধ্য ওভারের চাপ সামলাতে না পারায় আবারও হারের মুখে পড়ে সফরকারীরা।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসে আলো ছড়িয়েছেন কেবল ওপেনার তানজিদ হাসান। ধীরে শুরু করে ৪৮ বলে ৬১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেললেও তাঁর সঙ্গী পাওয়া যায়নি অন্য প্রান্তে। সাইফ হাসান, লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়— কেউই দুই অঙ্কের বেশি যেতে পারেননি।

ওপেনিংয়ে ধীর সূচনা (৪ ওভারে ১৪/১) পর মিডল অর্ডারে উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

লিটন ১৫ বলে ২৩ রান করে বোল্ড হন আকিল হোসেনের বলে, । এরপর জাকের আলী (১৭), শামীম হোসেন (১) কিংবা রিশাদ-নাসুম কেউই শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ২১ রান তুলতে পারেননি।

শেষ ওভারে আকিল হোসেনের ঘূর্ণিতে কোনো বাউন্ডারি আসেনি, উল্টো শেষ বলে রিশাদ ও নাসুম দুজনই আউট হয়ে শেষ হয় বাংলাদেশের আশা।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেমেছে ১৪৯ রানে। শুরুটা ছিল ঝড়ো— পাওয়ারপ্লেতেই ৫০ রান তুলে দেয় অ্যাথানেজ ও হোপ।

তাসকিন আহমেদের দারুণ বলেই প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ (কিং আউট ১), কিন্তু এরপর অ্যাথানেজ ও হোপের জুটিতে চাপ বাড়ে।

দুজন মিলে গড়েন ১০৫ রানের পার্টনারশিপ। অ্যাথানেজ ৩০ বলে ৫২ ও হোপ ৩৬ বলে ৫৫ রান করে ফিরলে নাসুম আহমেদ বাংলাদেশকে ফেরান খেলায়।

একই ওভারে টানা দুই বলে উইকেট তুলে নেন তিনি এরপর রিশাদও নেন পরপর দুটি।

শেষ দিকে মোস্তাফিজুর রহমান দেখান ‘পুরনো কাটার ম্যাজিক’। ইনিংসের ১৯তম ওভারে টানা দুই বলে ফেরান শেফার্ড ও পিয়েরে ম্যাচে নেন ৩ উইকেট ২১ রানে।

শেষ ৯ ওভারে মাত্র ৪৪ রান দিতে হয় বাংলাদেশকে, তবুও লক্ষ্যটা হয়ে দাঁড়ায় নাগালের বাইরে কারণ ব্যাটিংয়ে কেউই শেষ পর্যন্ত থাকতে পারেননি।

সিরিজের প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয়টিতেও বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ছিল ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। দলের প্রথম তিন ব্যাটার ৫০ রানের আগেই ফেরেন, আর তানজিদের একার ইনিংস বড় জয়ে রূপ পায়নি।

তাওহিদ হৃদয়, শামীম ও জাকেরদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শটেই নষ্ট হয় রানের গতি। শেষ চার ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪২ রান কিন্তু এসেছে মাত্র ২৯।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ব্যর্থতা কেবল কৌশলের নয়, আত্মবিশ্বাসেরও।

সিরিজের পরিসংখ্যান বলছে, দুই ম্যাচে বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের গড় রান মাত্র ১৬।

দুই ম্যাচেই হেরে সিরিজ এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে। শুক্রবারের শেষ ম্যাচ তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতা।

তবে কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্ট এখন চাইবে, অন্তত শেষ ম্যাচে ব্যাটিং ইউনিট কিছুটা জবাব দিক বিশেষ করে মিডল অর্ডারের ধারাবাহিকতা খুঁজে পাওয়া জরুরি।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চাইবে ক্লিন–সুইপ করে সিরিজ শেষ করতে।

অধিনায়ক শাই হোপ বললেন, আমরা ধারাবাহিক হতে চাই, বিশেষ করে বল হাতে। বোলাররা আজ যেভাবে শেষ ১০ ওভারে খেলেছে, সেটা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস বলেন, আমরা বোলিংয়ে ভালো করেও ব্যাটিংয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। প্রথম ১৫ ওভারে একজন সেট ব্যাটার থাকলে ফল অন্যরকম হতো।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৪৯/৯ (হোপ ৫৫, অ্যাথানেজ ৫২; মোস্তাফিজ ৩/২১, রিশাদ ২/২০, নাসুম ২/৩৫)।

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৫/৮ (তানজিদ ৬১, জাকের ১৭; আকিল ৩/২২,শেফার্ট৩/২৯ হোল্ডার ২/২০)।

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়ী ১৪ রানে।

সিরিজ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে ২–০ (৩ ম্যাচের সিরিজে)।

পর পর দুই ম্যাচে হার বাংলাদেশের জন্য বড় সতর্কবার্তা। বোলিংয়ে উন্নতি দেখা গেলেও ব্যাটিং অস্থিরতা থেকেই যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দলটিতে প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু সঠিক কৌশল ও মানসিক প্রস্তুতির ঘাটতি আছে।

তৃতীয় ম্যাচ জয়ের মধ্য দিয়ে লড়াই ফিরিয়ে আনা এবং আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য আত্মবিশ্বাস তৈরি এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে।

 

ইএইচ