টিকিট ছাড়াই বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে পারবেন ১৪ হাজার দর্শক

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
টিকিট ছাড়াই বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে পারবেন ১৪ হাজার দর্শক

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে তুমুল সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক। ফিফার মতো ক্ষমতাধর সংস্থাকে টেক্কা দিয়ে, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে নিজেদের ৬০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছেন তারা।

আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহ্যবাহী আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ফুটবল বিশ্বকাপের। প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের অনন্য কীর্তি গড়তে যাওয়া এই মাঠেই গ্যালারির একটি বিশাল অংশজুড়ে বসবেন এই সৌভাগ্যবান দর্শকেরা, যাদের একটি টাকাও খরচ করতে হবে না।

এই অবিশ্বাস্য ঘটনার সূত্রপাত ১৯৬০-এর দশকে। আজটেকা স্টেডিয়াম নির্মাণের সময় তীব্র অর্থসংকটে পড়েছিল কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন স্টেডিয়ামের ৬০০টি বিশেষ বক্স এবং প্রায় ৮ হাজার সাধারণ গ্যালারি আসন অগ্রিম বিক্রি করা হয়। 

ক্রেতাদের সাথে চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ, আন্তর্জাতিক ম্যাচ কিংবা কনসার্টসহ যা-ই অনুষ্ঠিত হোক না কেন, আসন মালিকেরা অতিরিক্ত কোনো টিকিট ছাড়াই তা সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে এই সুবিধার আওতায় থাকা মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ হাজারে।

এর আগেও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ফিফা এই আসনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে সেবার দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র মতো ঐতিহাসিক ম্যাচগুলোও এই আসনের মালিকেরা ফ্রিতেই দেখেছিলেন। 

২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফিফা এবং স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আবারও ওই আসনগুলো নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনার পাঁয়তারা করলে, আসন মালিকদের সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। চূড়ান্ত রায়ে আদালত তাদের অধিকার বহাল রাখে। মেক্সিকান সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ফিফার কাছে এই আসনগুলো বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো বড় অঙ্কের লোকসান বা ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে।

আসন মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আদালত আমাদের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে আমাদের কোনো বাড়তি অর্থ দিতে হবে না।” তবে জটিলতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি; বিশ্বকাপের মাত্র এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও এই দর্শকেরা এখনো তাদের ডিজিটাল টিকিট বুঝে পাননি। 

রুয়ানো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, স্টেডিয়ামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হলে তারা আবারও আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে বলপ্রয়োগ করতে দ্বিধা করবেন না। সমস্ত নাটকীয়তা শেষে ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বাস, ১২ জুনের উদ্বোধনী ম্যাচে ১৪ হাজার দর্শক ঠিকই গ্যালারিতে হাজির হয়ে বিনামূল্যে ইতিহাস গড়ার সাক্ষী হবেন।

এএন