Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

একদিনে ৩ লাখ ৪৫৮৭ লিটার তেল উদ্ধার!

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ১৩, ২০২২, ০২:০৩ এএম


একদিনে ৩ লাখ ৪৫৮৭ লিটার তেল উদ্ধার!

দেশে ভোজ্যতেলের মজুত পর্যাপ্ত। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোজ্যতেলের বাজারে আগুন দিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাদের লোলুপ প্রতারণা এমন সংকট তৈরি করেছে যে, দেশের কোথাও উচ্চমূল্যেও তেল মিলছে না। ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ লাঘবে অভিযানে নামে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঈদের পর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান এখনো চলছে। গত বুধবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের কব্জায় থাকা আড়াই লাখ লিটারেরও বেশি তেল উদ্ধার করা হয়। 

তবে গতকাল উদ্ধার হওয়া তেলের পরিমাণ ছাড়িয়ে যায় গত পাঁচদিনের মোট পরিমাণ। এ দিন ঢাকাসহ দেশের ১০ জেলায় অভিযানের মাধ্যমে তিন লাখ চার হাজার ৫৮৭ লিটার তেল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি জরিমানা ও সিলগালা করা হয় সংশ্লিষ্ট দোকান মালিক ও প্রতিষ্ঠানকে। তেলের সংকট দূর না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ভোক্তা অধিকারের পাশাপাশি র্যাব সদস্যরাও অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।

খুলনা (২ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪০ লিটার) : গতকাল সকালে নগরীর তিন প্রতিষ্ঠান থেকে মজুত করা দুই লাখ ৩৬ হাজার ৬৪০ লিটার সয়াবিন ও পামওয়েল উদ্ধার করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। উদ্ধারকৃত তেলের মধ্যে ৭৩ হাজার ৩২ লিটার সয়াবিন ও এক লাখ ৬৩ হাজার ৬০৮ লিটার পাম তেল। এ সময় তিন প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সঠিক মূল্যে তেল বিক্রির জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক।

সিরাজগঞ্জ (৩৭ হাজার ৫০০ লিটার) : সলঙ্গায় এক ব্যবসায়ীর দোকান ও গোডাউনে মজুত করা খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন এবং পাম ও সুপারসহ মোট ৩৭ হাজার ২০০ লিটার তেল জব্দ করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। পরে ওই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে ৩৭ হাজার লিটার খোলা সয়াবিন, পাম ও সুপার তেল এবং ২০০ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। গতকাল দুপুরে সলঙ্গা বাজারের রাজলক্ষ্মী বাণিজ্য ভাণ্ডার ও দুলাল চন্দ কুণ্ডু স্টোরে এ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযোগে দোকান মালিক পরিতোষ সাহার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আর মজুতকৃত তেল খোলাবাজারে বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ (৮ হাজার লিটার) : সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজারের আমবাড়ি বাজারে অভিযান চালিয়ে আট হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল দুপুরে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় ছয় প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই বাজারের আলমগীর স্টোর থেকে দুই হাজার লিটার, ফখরুল স্টোর থেকে দেড় হাজার লিটার, সাগর নদী স্টোর থেকে ৫০০ লিটার, অনুকূল স্টোর থেকে দেড় হাজার লিটার, দুর্গা ভাণ্ডার থেকে দুই হাজার লিটার ও পীযূষ ট্রেডার্স থেকে ৫০০ লিটার তেল তাদের গুদাম থেকে জব্দ করা হয়। 

শেরপুর (৫ হাজার লিটার তেল) : জেলার সদর উপজেলা গাজীর খামারবাজারে সাথী স্টোর নামে একটি খুচরা বিক্রেতার দুটি গুদাম ও বাসা থেকে পাঁচ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় অবৈধভাবে তেল মজুত ও বেশি দামে বিক্রির দায়ে দোকানিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সকালে চালানো এই অভিযানে সাথী স্টোরের মালিক আবু সায়েম সাথীর বাসা ও দুটি গুদাম থেকে কার্টন ভর্তি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রায় পাঁচ হাজার লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। মজুতকৃত তেলের বোতলে তিন মাসে আগের মূল্য লেখা রয়েছে। তবে মূল্যের সিল কৌশলে উঠিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে প্রতি লিটার সয়াবিন ২০০-২১০ টাকা মূল্যে বিক্রি করছেন ওই দোকানি।

নওগাঁ (৭৫৩ লিটার) : জেলা শহরের তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ৭৫৩ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় তিনটি দোকানের মালিককে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল বৃহষ্পতিবার শহরের আটাপট্টি এলাকার কিরন ট্রেডার্স ও রঞ্জিত পাল এবং গোস্ত হাটির মোড় এলাকার আজাদ ষ্টোরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনটি দোকান থেকে এক লিটার, দুই লিটার ও পাঁচ লিটার বোতলের মোট ৭৫৩ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়। পরে তেল মজুত রাখার অভিযোগে কিরন ট্রেডার্সকে ৩০ হাজার, রঞ্জিত পালকে ২৫ হাজার এবং আজাদ ষ্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

জামালপুর (৪ হাজার ৩২০ লিটার) : সদর উপজেলায় দুটি গুদামে অভিযান চালিয়ে চার হাজার ৩২০ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল দুপুরে শহরের দয়াময়ী ও মুকুন্দবাড়ি এলাকার দুটি গুদাম থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব বোতলজাত তেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রথমে শহরের দয়াময়ী এলাকায় রঞ্জন সিংহের গুদামে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তিন হাজার ৮৭৬ লিটার ভোজ্যতেল পাওয়া যায়। পরে শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকায় কামাল ট্রেডার্সের গুদামে অভিযান চালিয়ে ৪৪৪ লিটার ভোজ্যতেল পাওয়া যায়। এসব বোতলজাত তেলের গায়ে লেখা মূল্য উঠিয়ে ফেলা হয়েছিল। এ কারণে কামাল ট্রেডার্সের মালিক কামাল হোসেনকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চট্টগ্রাম (১ হাজার ১৫ লিটার) : তেল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামের ছোটপোল এলাকার বিসমিল্লাহ স্টোরকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। পাশাপাশি দোকান ও গোডাউনকে সিলগালা করে গোডাউনের এক হাজার ১৫ লিটার ভোজ্যতেল ন্যায্যমূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তেলগুলো ঈদের আগে কিনে বেশি দামে বিক্রি করার জন্য মজুত করে রেখেছিলেন দোকান মালিক। গতকাল সকালে এ অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

ঝিনাইদহ (২০৬ ড্রাম) : গতকাল দুপুরে জেলার কালীগঞ্জ শহরের বিহারী মোড় এলাকার আরএস অয়েল মিলসে ২০৬ ড্রাম ভোজ্যতেলের অবৈধ মজুত উদ্ধার করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মামুদ হোসেনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

নাটোর (৫ হাজার ৩৫৯ লিটার) : বড়াইগ্রাম উপজেলার মৌমাখাড়া বাজারে পৌরমেয়র মাজেদুল বারী নয়নের নয়ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও শহরের অন্যান্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট পাঁচ হাজার ৩৫৯ লিটার সয়াবিন তেল আটক করা হয়। এ সময় অবৈধ মজুত ও বাড়তি মূল্যে তেল বিক্রির দায়ে ছয় ব্যবসায়ীকে এক লাখ ৯৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। বুধবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও র্যাবের একটি দল। পৌরমেয়র মাজেদুল বারী নয়নের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে তিন হাজার লিটার সয়াবিন তেল আটক ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ঢাকা (৬ হাজার লিটার) : অবৈধভাবে তেল মজুতের অভিযোগে রাজধানীর কাপ্তান বাজারের জনতা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে ছয় হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় তেল মজুতের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল দুপুরে এই অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। জানা গেছে, ঈদের আগে কম দামে ২৮ হাজার লিটার তেল কিনে মজুত করে জনতা এন্টারপ্রাইজ। ঈদের পর থেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন তারা। অভিযানে তাদের গুদামে ছয় হাজার লিটার তেল পাওয়া গেছে। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংবাদ মাধ্যমকে দেশব্যাপি অভিযানের তথ্য দেয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ও বিভাগীয় এবং জেলা কার্যালয়ের ৫৭ জন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৫৩ জেলায় বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী রাজধানীর কাপ্তানবাজারসহ সারাদেশের ৬৪ বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভোক্তা স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন অপরাধে ১১৪ প্রতিষ্ঠানকে ১৮ লাখ দুই হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া ৩৬ জেলায় দুই লাখ ছয় হাজার ৬৬৩ লিটার তেল জব্দ করা হয়। এসময় জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।