Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

বাজেটের চেয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ২৩, ২০২২, ০৮:৫৩ পিএম


বাজেটের চেয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জরুরি

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির চেয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিতা জরুরি৷ পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সাথে সমন্বয় করতে শিক্ষকদের সফট স্কিলের ওপর জোর দিতে হবে। শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার যথার্থ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।   

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও অ্যাডুকেশন ওয়াচ আয়োজিত 'আমাদের শিক্ষা বাজেটের গতি-প্রকৃতি ও আগামীর প্রত্যাশা' শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বত্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী।

উপমন্ত্রী বলেন, এবার বাজেটে শিক্ষাখাতে ৮১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আমাদের অনেকগুলো বিভাগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দক্ষতা, কর্মভিত্তিক প্রশিক্ষণও কিন্তু শিক্ষার একটি অংশ। তবে বাজেট বরাদ্দের চেয়ে এর যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানব সক্ষমতা। সেখানে পরিবর্তন প্রয়োজন। আমাদের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় যেসব জায়গায় জোর দেওয়া দরকার সেদিকে জোর দিতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের প্রতি বিনিয়োগে প্রধানমন্ত্রী জোর দিতে বলেছেন। আমাদেও অনেকগুলো বিষয়ের দিকে নজর রাখতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মমুখী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না নজরে রাখতে হবে। উচ্চশিক্ষার পেছনে যে ব্যয় হচ্ছে সেটি মূল্যায়ন হয় না। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালনার কাজে যেটি জড়িত সেটি হলো শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ। প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কতোটা সঠিকভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। মুখস্ত বিদ্যাকে আমাদের এখানে বেশি মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু আমরা কারিকুলামে পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছি।

মহিবুল হাসান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ কি সমাধান? অনেক সময় সেটি হলে শিক্ষার মান কমে যায়। সেখানে ব্যবস্থাপনাগত ঘাটতি তৈরি হয়। তখন বদলির তদবির শুরু হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাজধানীকেন্দ্রিক মানসিকতা থাকে। দেখা যায় একটি ফাইল অ্যাপ্রুভের জন্য মন্ত্রীর স্বাক্ষর লাগবে। কিন্তু সচিবালয়ে প্রবেশ কতোটা কষ্টকর সেটা আমি জানি। মন্ত্রীর পতাকা পাওয়ার আগে আমারও কষ্ট হতো।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক বরাদ্দ দিচ্ছেন। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেসিবিলিটি প্রতিষ্ঠা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক বড় একটি মডেল। বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোটা চ্যালেঞ্জ না, কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে অনেক কাজ করার আছে। আমরা কোন খাতে বাড়াবো। শিক্ষাকদের প্রশিক্ষণ সবচেয়ে জরুরি এবং জবাবদিহিতা জরুরি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান বলেন, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বেড়েছে। বরাদ্দ আরও বাড়লে তখনও হয় দেখা যাবে অনেকটা অব্যয়িত থেকে যাবে। প্রত্যেক শিক্ষককে আইসিটির বিষয়গুলো শিখতে হবে। কারণ, শিক্ষার্থীদের শেখাতে হলে আগে নিজের শিখতে হবে। প্রচুর প্রশিক্ষণ আমরা দিচ্ছি, বরাদ্দও আছে। তবে প্রশিক্ষণের ফলাফল কি সেটা অনেক সময় আমরা দেখতে পাই না।

তিনি বলেন, নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করলে অনেক কিছু করা সম্ভব। বাজেটে বরাদ্দ বাড়লেই যে শিক্ষার মান বাড়বে তা কিন্তু নয়। মানসম্মত শিক্ষার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করলে এটি সম্ভব।

সংসদ সদস্য আরমা দত্ত বলেন, করোনার কারণে পৃথিবীর সবাই হোঁচট খেয়ে আছি। সেখান থেকে বের হতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেজন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।