আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ৯, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্ধারিত আইনি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা জানান।
ভারতের সাথে সম্পর্ক নিয়ে তিনি জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে যে সাময়িক দূরত্ব বা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, এখন সেখান থেকে তারা পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে চায়। তাই বর্তমানে সীমান্তে যে পুশইনের ঘটনা ঘটছে, তা ভারত সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে করছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না এবং এই দ্বিপক্ষীয় সমস্যাটি সহসাই সমাধান হয়ে যাবে।
দেশের চলমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এই কাজটি সঠিকভাবে করেনি বলেই দেশে এতদিন পর্যাপ্ত দক্ষ মানবসম্পদ বা জনগণ তৈরি হয়নি।
দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার বড় অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশের সবকটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমানের ৫০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১০১ শয্যায় উপনীত করা হবে। বর্তমানে দেশের মাত্র ৮টি উপজেলায় ১০১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সব জায়গায় সম্প্রসারণ করা হবে।
একই সাথে দেশের যোগাযোগ খাতের বড় খবর জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক চুক্তির কাজ এই মুহূর্তে বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
দেশে বহুল আলোচিত জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে দাম বাড়ানোর পরেও আন্তর্জাতিক বা বৈশ্বিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনো অনেক কম রয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও শেয়ারবাজার নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অতীতের যেকোনো রেকর্ড ঘাটলে দেখা যাবে বিএনপির শাসন আমলে কখনো শেয়ার বাজারে বড় কোনো ধস বা সমস্যা ছিল না, অথচ এই খাতের বড় বড় জালিয়াতি ও লুটপাট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বারবার দেখা গেছে।
তিনি সাংবাদিকদের আরও জানান, পদ্মা ব্যারেজের মতো এবার তিস্তা ব্যারেজেও শুষ্ক মৌসুমের জন্য পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই বছরের মধ্যেই এটিকে একটি বড় প্রকল্প হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে, যাতে বর্ষাকালের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে পরবর্তী সময়ে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে তা ব্যবহার করা যায়। তবে একই সাথে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে আলোচনা চলছে, তা সরকার সমান্তরালভাবে চালিয়ে যাবে।
এএন