আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ১০, ২০২৬, ১২:৪৭ এএম
ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশ ও জার্মানি রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। দুই দেশই বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জার্মান ফেডারেল পররাষ্ট্র দপ্তরের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষের মতে, এ সহযোগিতা বাংলাদেশ ও জার্মানি-দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে।
আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সরবরাহ ব্যবস্থা, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, অভিবাসন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং শান্তি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বিস্তারের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।
ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। তার মতে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সংলাপের মাধ্যমে বিদ্যমান অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করার বিষয়েও মতবিনিময় করেছে।
এ সময় জার্মানির পক্ষ থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়ার ঘটনায় অভিনন্দন জানানো হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও সহজ করবে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় দেশ শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।
এর আগে জার্মান প্রতিনিধি ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
এম জি