ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
অর্থমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জুন ১০, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, অস্থিরতা বা পরিকল্পিত অপচেষ্টা সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বর্তমান সরকারের হাতেই ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ সবচেয়ে নিরাপদ। একই সঙ্গে ব্যাংকটির মর্যাদা ও আর্থিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় এবং ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সে কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তার ভাষ্য, যাদের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তারা কেউই ব্যক্তিগত নামে অর্থ গ্রহণ করেননি। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক বিতর্কের পেছনে মূলত নির্বাচনী রাজনীতির প্রভাব রয়েছে।

আমির খসরু বলেন, বিগত নির্বাচনে কিছু এলাকায় প্রার্থীদের বিপুল অর্থ ব্যয়ের ঘটনা দেখা গেছে। এমনও প্রার্থী ছিলেন, যাদের দৃশ্যমান আয়ের উৎস না থাকলেও তারা ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন। তার মতে, অপ্রদর্শিত ও অবৈধ অর্থ রাজনীতিতে প্রবেশ করলে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য বিরোধী দলের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, কোনো গ্রাহক ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পরিচয় দেখে আমানত রাখেন না বা তুলে নেন না। গ্রাহকদের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো আমানতের নিরাপত্তা এবং প্রত্যাশিত মুনাফা। তাই চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে কয়েক হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নেওয়ার দাবি বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রীর অভিযোগ, ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে একটি উগ্র গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মিছিল ও বিশৃঙ্খল কর্মসূচি চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য ইসলামী ব্যাংককে দুর্বল করে দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করা।

ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এক বছরে মুনাফা বৃদ্ধির যে দাবি করা হচ্ছে, তার বড় অংশই ছিল কৃত্রিমভাবে উপস্থাপিত। খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ স্থগিত রেখে ওই মুনাফা দেখানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫১ শতাংশ। একই সময়ে সংরক্ষণ স্থগিত সুবিধার পরিমাণ ৬৯ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে। এর ফলে ২০২৬ সালের শুরুতে ব্যাংকটি প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা নিট লোকসানের মুখে পড়ে।

তিনি বলেন, অতীতে ব্যাংকটি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠলেও তখন সাধারণ গ্রাহকরা আমানত তুলে নেননি। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে ব্যাপক আমানত প্রত্যাহারের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংককে তার প্রকৃত ও বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক মহল এ প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে দেশজুড়ে উশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।

বর্তমান গভর্নরের প্রশংসা করে আমির খসরু বলেন, দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ ব্যাংক একজন দক্ষ ও কার্যকর গভর্নর পেয়েছে বলে দেশের মানুষ ও বেসরকারি খাত মনে করে। তিনি নিয়মের মধ্যে থেকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কাউকে ঋণগ্রস্ত বলে সমালোচনা করা যৌক্তিক নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংসদের অধিকাংশ সদস্যই কোনো না কোনোভাবে ব্যাংকঋণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই ঋণ গ্রহণকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই।

এম জি

Link copied!