ঢাবিতে খ ইউনিটে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী জাকারিয়াকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা

মাদরাসার শিক্ষার্থী হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ায় দেশব্যাপী আলোচনার শীর্ষে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী জাকারিয়া। জাকারিয়াকে নিজেদের কোচিং এর শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে  রীতিমতো ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে শিক্ষার্থীরা জাকারিয়াকে। ভর্তি  পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান ভর্তি কোচিং ফোকাসের প্রধান শাখা ফার্মগেটে‌।

অতঃপর সন্ধ্যায় কোচিং এর পেজ থেকে লাইভ শুরু করার সাথে সাথে বাহির থেকে হট্টগোল শুরু হয় এবং জাকারিয়াকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চান কতিপয় মানুষ। এমনই ঘটনা জাকারিয়া তার ফেইসবুক পোষ্টে উল্লেখ্য করেন। 

এ বিষয়ে  ফোকাসের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে জাকারিয়ার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। তবে কারা হামলা করেছে কর্তৃপক্ষ তাদের নাম বলতে ইচ্ছুক নন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাকারিয়ার এক বন্ধু জানান, হামলাকারী যারা তারা হলো আইকন প্লাস কোচিং সেন্টারের কর্তৃপক্ষ।

জাকারিয়া জানান, ওই লোকেরা অন্য একটি কোচিংয়ের শিক্ষক ও পরিচালনায় যুক্ত। তারা জাকারিয়াকে দিয়ে জোর করে তাদের কোচিংয়ের কথা বলানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ বিষয়ে আইনগত ভাবে কোন ব্যবস্থা নিবেন কি না সে বিষয়ে তিনি বলেন, আপাতত ইচ্ছে নাই। আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। 

এ বিষয়ে আইকন প্লাস কোচিং এর কর্তৃপক্ষের সোহেল রানা নামের একজন বলেন, আইকন আর ফোকাসের কোচিং একই দালানে। উনারা তখন দরজা বন্ধ করে অনুষ্ঠান করছিলেন। যখন এমন ঘটনা ঘটে তখন আইকনের কয়েকজন সদস্য নিচে নামতে ছিলেন। আইকনের সদস্যদের দেখেই উনারা ভেবে নিয়েছে এমন ঘটনা আইকন প্লাস ঘটিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। আমাদের সাথে এর কোন সর্ম্পক নেই। 

জাকারিয়া তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে হুমকির কথা জানিয়েছেন। আমার সংবাদের পাঠকের জন্য পোষ্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলোঃ- “ফোকাস ফার্মগেট শাখায় আছি। লাইভের সময় হঠাৎ বাইরে হুড়োহুড়ি। কিছুক্ষণ পরে কিছু লোকজন ঢুকল। ঢুকেই বলল এই তোরা কি মিটিং করোছ নাকি। এসেই ফোকাসের ভাইদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করল।আমারেও বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করল কিন্তু যাইনি। এক পর্যায়ে টানাটানি। তাতেও না নড়ায় এক কালো পান্ডা মাথায় থাপ্পড় দিল। শেষ পযার্য়ে ফোকাসের ভাইদের বাইরে পাঠিয়ে দিল। এক পর্যায়ে দেখলাম এক কোচিং এর কিছু টিচার। আসছিল জোর জবরদস্তি করে বলাবে জাকারিয়া আমাদের কোচিং এর।

আমার যদি কিছু হয় তাহলে তারা দায়ী। এখন ফার্মগেটই আছি। টিচাররূপী কিছু কুলাঙ্গারও চলে গেল। মওদুদ ভাইয়া এবং আলামিন ভাইয়ারাও সব জানে। কোচিং এর নাম বললাম না। ক্ষমা করে দিব বলছি। তাই ক্ষমা করে দিলাম। আশা করি আর জীবনেও এমন কাজ করবেন না। এবং টিচাররূপী কুলাঙ্গারগুলোও মানুষ হবেন। আমি ফোকাসেই কোচিং করেছি। অন্য কোথাও কোচিং করিনি।”

উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার (২ নভেম্বর ) ঢাবির খ ইউনিটে ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফলে দেখা যায় দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া  মাদরাসা শিক্ষার্থী সাখাওয়াত জাকারিয়া ১০০.০৫ নাম্বার পেয়ে খ ইউনিটের শীর্ষস্থান দখল করেন।

আমার সংবাদ/রাব্বি