গৌরবময় ৫০ বছরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ

২৬ মার্চের প্রেক্ষাপটকে স্মরণ করে, দীর্ঘ নয় মাসের দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্রকে মুছে দিয়ে ৫০ বছরের বাংলাদেশ আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গৌরবময় জাতি হিসেবে। একটা জাতির স্বাধীনতার আকাঙ্খা পশ্চিমা শাসকরা গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিলো কামানের মুখে। মেধাশূন্য করতে চেয়েছিলো কিছু বাংলাদেশ বিরোধী কুচক্রিমহলসহ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি। কিন্তু বিধাতার অপরূপ দৃষ্টি থেকে ধ্বণিত হতে থাকে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির আর্তনাদ- বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা আর মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারে। এদেশেরই তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে নানা বয়সী বাঙালি চেতনার জনগণ সে সময় পাকিস্তানী স্বৈরশাসকের সব ষড়যন্ত্রের জাল পুড়িয়ে দিয়েছে। এই ত্যাগ তিতীক্ষার স্বাধীন বাংলাদেশকে সঠিকভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে সঠিক তথ্য দিয়ে। মার্চ মাসটি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ মার্চ বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও ২৬ মার্চ ঘটনাচক্রেই জাতির জনক এনে দিয়েছে আজকের স্বাধীনতা।

সমস্ত জাতির ভাষা যে বজ্রকণ্ঠ ধারণ করেছিল সেদিন সেই কণ্ঠকে দাবিয়ে রাখতে বিনা অপরাধে জাতির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সারা দেশে নির্বিচারে গণহত্যা, নিরীহ মানুষদের ব্যাপকভাবে ধরপাকড় চালিয়ে পাক-শাসকরা চেয়েছিল বাঙালি জাতিকে চিরদিনের মতো স্তব্ধ করে দিতে। বঙ্গবন্ধু এরই মধ্যে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণা পরবর্তী সময়ে ছড়িয়ে দেয়া হয় সর্বত্র। সত্যিকারের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট একদিনেই তৈরি হয়নি। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬ দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ’৭০-এর নির্বাচন না মেনে না নেয়ার কারণগুলোও যুক্ত হয়েছে ১৯৭১-এর আজকের বিশেষ দিনটি। আর এসব পটভূমিকায় বঙ্গবন্ধুই সব কিছুর অবিসংবাদিত নেতা তথা স্বাধীনতা যুদ্ধের অগ্রসেনানিরূপে প্রতীয়মান হয়।

১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলো মিটার বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষের জন্য আবাসিক ভূমি হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম এ রাষ্ট্রের নাম ‘বাংলাদেশ’। এই ঘোষণাপত্রে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।  এর এক জায়গায় বলা হয় ‘হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে প্রত্যেক জনগণকে সাম্প্রদায়িক মনোভাব পরিহার করতে হবে এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক।

১৯৬৯ সালে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ভয়ালরূপ ধারণ করে। ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাদের ঐতিহাসিক ১১ দফা কর্মসূচি পেশ করে। কিন্তু তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান এ দাবি অগ্রাহ্য করে আন্দোলনকারীদের ওপর দমনপীড়ন শুরু করে।  এই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনায় প্রাণ হারান ছাত্রনেতা আসাদ, কিশোর মতিউর, সার্জেন্ট জহুরুল হক, শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহাসহ আরও অনেকে। এসব ঘটনায় সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেলে ২২ ফ্রেব্রুয়ারি সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার কওে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল বন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। অবশেষে আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন এবং ২৪ মার্চ তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইয়াহিয়া খান সাধারণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলে বিক্ষোভের অবসান হয়।

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পরিষদের নির্বাচন এবং ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তানের ৫টি প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন। উভয় পরিষদের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জাতীয় পরিষদের সর্বমোট ৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসন পায়।  অন্যদিকে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি ৮৮ আসন মপেয়ে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মর্যাদা লাভ করে। হানাদারদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতে প্রতিরোধ শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। কিন্তু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধুর তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশনামূলক উদাত্ত আহ্বানে গোটা জাতি মুক্তিযুদ্ধেও প্রস্তুতি শুরু করে।

১৯৭১-এর ২৫ মার্চ, বৃহস্পতিবার। আজ থেকে ৪৯ বছর আগে একটি ভয়াল কালো রাতে। ২৫ মার্চের আগে ঢাকা থেকে সব বিদেশি সাংবাদিক বের করে দেয়া হয়। সে রাতেই পাকিস্তানি বাহিনী শুরু করে অপারেশন সার্চলাইট নামের হত্যাযজ্ঞ। যদিও এই হত্যাযজ্ঞের কেন্দ্রবিন্দুু ছিলো ঢাকাসহ পুরোদেশ। স্বাধীনতা আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো ছিলো তাদের বিশেষ লক্ষ্য। ধর্মীয় সম্প্রদায় নির্বিশেষে পাকিস্তানি হায়েনার দল রোমহর্ষক বর্বরতা চালায়। একমাত্র হিন্দু আবাসিক হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলটি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। ৬০০-৭০০ আবাসিক ছাত্রকে হত্যা করা হয়। নিরস্ত্র বাঙালি গণহত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অপারেশন সার্চলাইট। মেজর  জেনারেল ফরমানের নেতৃত্বে ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর অন্যতম লক্ষ্য ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইপিআর সদর দপ্তর ও রাজারবাগ পুলিশ লাইন ধ্বংস ও পরাভূত করা এবং ২য় ও ১০ম ইপিআরকে নিরস্ত্র করা। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠান্ডা মাথায় হত্যাকান্ডের কথা অস্বীকার করেছে।

জগন্নাথ হল এবং অন্যান্য ছাত্র হলগুলোতে পাকিস্তানিদের হত্যাযজ্ঞের চিত্রের ভিডিও ধারণ করেন তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজির (বর্তমান বুয়েট) অধ্যাপক নূর উল্লাহ। মধ্যরাতের আগেই, ঢাকা পুরোপুরি জ্বলছিল, বিশেষভাবে পূর্বদিকের হিন্দুপ্রধান এলাকাগুলো। ২৫ মার্চের ঐ কালো রাতের ঘটনা আজো প্রত্যেক বাঙালিকে ভয়ার্ত ও আতঙ্কিত করে তোলে। বাঙালি রক্তে-আগুনে-কামানে গোলায় বিভীষিকাময় এ রাতের কথা কোনোদিন ভুলতে পারবে না। এটা অবশ্যই কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিলো না, ছিলো পরিকল্পিত আক্রমণ্ত অপারেশন সার্চলাইট। ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। গ্রেফতার হবার একটু আগে বঙ্গবন্ধু মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। শেখ মুজিব গ্রেফতার হবার পূর্বে ২৫ মার্চ রাত ১২টার পর (অর্থাৎ ২৬মার্চ) টি.এন্ড.টি ও ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ই.পি.আর) ওয়ারলেসের মাধ্যমে মেসেজে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র, ১৫শ খন্ড, পৃ: ৫৬)। ১৯৭১ সালের এই রাতের ঘটনা আজো প্রত্যেক বাঙালিকে ভয়ার্ত ও আতঙ্কিত করে  তোলে। বাঙালি রক্তে-আগুনে-কামানের গোলায় বিভীষিকাময় এই এক রাতের কথা কোনোদিন ভুলতে পারবে না। সেই ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি সেনারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালির ওপর। এটা অবশ্যই কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, ছিল পরিকল্পিত আক্রমণ অপারেশন সার্চলাইট। ঐ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পরই মধ্যরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চেও প্রথম প্রহরে জাতির অবিসংবাদিত নেতা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতা  ঘোষণা করেন। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে বঙ্গবন্ধুর সেই ঘোষণা তৎকালীন ইপিআরের ওয়্যারলেস থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন :- পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিত পিলখানার ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে এবং শহরের লোকদের হত্যা করছে। ঢাকা, চট্টগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে। আমি বিশ্বের জাতিগুলোর কাছে সাহায্যের আবেদন করেছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সাথে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। কোনো আপস  নেই, জয় আমাদের হবেই। আমাদের পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রুকে বিতাড়িত করুন। সকল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতাপ্রিয় লোকদের এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন, জয় বাংলা। ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা পাঠ করেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার আগমুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণার একটি লিখিত বাণী চট্টগ্রামের জহুর হোসেনসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। চট্টগ্রাম বেতারকেন্দ্র এ সময় বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। ২৬ মার্চ কালুরঘাট ট্রান্সমিশন সেন্টার থেকে সর্বশক্তি নিয়ে হানাদার বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। উল্লেখ্য যে, এ ঘোষণা প্রচারের সময় বেতার কেন্দ্রের নাম ছিল স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র কিন্তু পরে বিপ্লবী শব্দটি বাদ দেয়া হয়। এ বেতার কেন্দ থেকেই ২৭, ২৮ ও ৩০ মার্চ পর পর তিনটি  ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে স্বাধীনতার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু কন্যা আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বিশ্বের তারকা খ্যাতি লাভ করেছেন। এ খ্যাতি বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসেবে লাভ করেননি। তার মেধা, তার দূরদর্শিতা, তার সময়মত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার জন্যই আজ বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের মডেল। ৫০ বছরের সাফল্যে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, শিক্ষার হার শতকরা ৮০%, মানুষের মাথা পিছু আয় ৩৫০ থেকে আজ ২১০০ মার্কিন ডলারে দাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা এতো বেশী উন্নয়ন ঘটেছে যে, মানুষের গড় আয়ু  বর্তমানে ৫৪-৭০ বছর। বিদ্যুৎ ৩৫০০ থেকে ২৪০০০ মেগাওয়াট এ উৎপন্ন করার ফলে, বিদ্যুতের সুবিধা সাধারণ মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌছেছে। বিদ্যুৎ পাচ্ছে বলেই যত্রতত্র কল-কারখানা স্থাপিত হচ্ছে। আজকাল বিদ্যুতের অভাবে কোন গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানা বন্ধ থাকেনা। বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের ১৩ কোটি মানুষই মোবাইল ব্যবহার করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকা থেকেই সারা পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয় রাখতে পারছে সাধারণ মানুষ। একেই বলে ডিজিটাল বাংলাদেশ। সবই সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন আমরা সবই পারি। পদ্মা সেতু, ঢাকা শহরে উড়াল সেতু, নির্মীয়মান মেট্রো রেল, চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর নিচে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু টানেল বাংলাদেশের উন্নয়নের মডেল। জঙ্গি দমনে যেখানে পশ্চিমা দেশগুলি ব্যর্থ হচ্ছে সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জঙ্গি নিশ্চিহ্ন হয়েছে। জাতিসংঘের কাছ থেকে শেখ হাসিনা জঙ্গি দমনের স্বীকৃতি স্বরুপ অনেকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে আজকে আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে উপনীত। ইতোমধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হয়েছি। জাতির জনকের প্রত্যাশিত সোনার বাংলা গড়ার কারিগর শেখ হাসিনা রূপকল্প ২০২১ ঘোষনা করেছেন। অবশ্যই ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হবে। সারা জাতি আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, জাতির জনকের জন্মশত বার্ষিকী পালন করছে।

দেশের উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে যাক, যেমনটি চেয়েছিল শেখ হাসিনার বাবা, ঠিক একই কাজগুলো করে যাছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা। জয় হোক এই মহান নেতার জন্মদিনের মধ্য দিয়ে বাংলার প্রায় আঠারো কোটি বাঙ্গালীর, জয় হোক বঙ্গবন্ধুর এই সাহসী কন্যার। ইতিহাসের পাতায় এটি দীর্ঘ সময় না হলেও কোনো জাতির অগ্রগতির জন্য একেবারে কম সময়ও নয়। এই সময়ে আমাদের আত্মজিজ্ঞাসার প্রয়োজন যে আমরা কী করতে পেরেছি, কী পারিনি, মুক্তিযুদ্ধে এত আত্মদান ও ত্যাগের পেছনে আমাদেও যে লক্ষ্য ও স্বপ্নগুলো ছিলো, সেসব কতটা পূরণ হয়েছে।

একদিকে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রকে বর্তমান সরকার যেভাবে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে, সত্যিই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলাদেশের জন্য। সাড়ে সাত কোটি বাঙালি থেকে প্রায় ১৮ কোটি বাঙালির মনে এখন অনেক বড় প্রত্যাশা আর সত্যিকার বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়। জাতি আজ মনে প্রাণে বিশ্বাস করে ৫০ বছরের গৌরবময় বাংলাদেশে এখন সত্যিকারের গণতন্ত্র চর্চার প্রতিফলন ঘটবে। বাংলার জনগণ এখন আর সেই পূর্বের ষড়যন্ত্রের পূণর্জন্ম হোক এটা কোনোভাবেই হতে দেবে না। কারণ স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিচার চলছে এবং চলবে। এটাই বাঙালি জাতির প্রত্যাশা আর দৃঢ় প্রত্যয়। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিলো গণতন্ত্র এবং অসাম্প্রদায়িকতা; আমাদের মুক্তিসংগ্রামের মর্মকথা ছিলো অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সব ধরনের অন্যায়-অবিচার, বৈষম্য থেকে মানুষের মুক্তি। এখন সেই চেতনায় স্বাধীনতার ৫০ বছরে গৌরবময়  বাংলাদেশ আজ অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে।

লেখক, গবেষক, সাংবাদিক

আমারসংবাদ/জেআই