সব ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও কর্মচারীর এমপিওভুক্তিতে রুল

দেশের সব ডিগ্রি কলেজের পাস কোর্সের প্রভাষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির আবেদনের সুযোগ প্রদান ও এমপিও প্রদানের নির্দেশনা কেন দেয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সেই সাথে রুলে স্নাতক (পাস) কলেজ এমপিওভুক্তির জন্য ন্যূনতম দুটি বিভাগ থাকতে হবে— এমন শর্ত আরোপ করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
 
ডিগ্রি কলেজের ২৯১ জন প্রভাষক ও কর্মচারীর দায়ের করা পৃথক তিনটি রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। 

একইসঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ), মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) সংশ্লিষ্ট চারজনকে এ নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট বিপুল বাগমার। 

শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিগ্রি কলেজের (পাস) কোর্সে কর্মরত প্রভাষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির আবেদনের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ প্রণয়ন করে ওই নীতিমালার পরিশিষ্ট ‘খ’-এর পাদটীকা অনুসারে  স্নাতক (পাস) কলেজ এমপিওভুক্তির জন্য ন্যূনতম দুটি বিভাগ চলমান থাকতে হবে।

যেহেতু রিটকারীদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি বিভাগ চালু রয়েছে তাই তারা দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার পরও এমপিওভুক্তির আবেদন করতে পারেন নাই। অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া আরও বলেন, এমপিওভুক্তির আবেদন করা রিটকারীদের আইনগত অধিকার কিন্তু উপরোক্ত শর্তের কারণে তারা ওই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন। 

যদিও আগের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৩ ও ২০১৮ এ ওই নিষেধাজ্ঞা ছিলো না এবং জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৩ ও ২০১৮ অনুসারে ডিগ্রি কলেজের (পাস) কোর্সে কর্মরত রিটকারীদের মতো প্রভাষক ও কর্মচারীরা এমপিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন কিন্তু রিটকারীদের বঞ্চিত করা হয়েছে তাই আবেদনকারীরা উপরোক্ত নির্দেশনা চেয়ে রিট পিটিশনটি দায়ের করেন। 

রিট আবেদনকারীরা হলেন— মো. নুর আলম ছিদ্দিক, মৃনাল কান্তি রায়, মো. হারুন অর রশিদ, মো. এমরানুল হাসান, মো. ওসমান গনি মো. জিলহক, মো. মনিরুল ইসলাম, সুকদেব সরকার, মো. খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার ২৯১ জন।

আমারসংবাদ/এআই