আ.লীগে চাঁদাবাজের স্থান নেই

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতারা বলছেন, দেশটাকে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করছেন। তার পরিশ্রম ও সঠিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। নেত্রীর সব অর্জন বিসর্জন হয়ে যায়, যখন দেখি আ.লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। 

এই চাঁদাবাজদের আওয়ামী লীগে স্থান দেয়া যাবে না। যদি তারা স্থান পায় তাহলে আ.লীগের সবার পরিশ্রম বৃথা যাবে। গতকাল রোববার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ৩৮নং ওয়ার্ড সম্মেলনে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কথা বলেন। 

মহানগর দক্ষিণের ৩৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার মইনুর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. হুমায়ুন কবির প্রমুখ। 

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবু আহমেদ মন্নাফী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উন্মাদ হয়ে গেছে। কি অদ্ভুত তার উক্তি। তার এ বক্তব্য সারা দেশে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। 

তিনি বলেন, বিএনপির জনসমর্থন নেই, পাবলিক ডাকলে আসে না। প্রেস ব্রিফিং করে প্রতিদিন মির্জা ফখরুল আবোলতাবোল কথা বলে। কি বলবো তাকে, তিনি আওয়ামী লীগকে চেনেন? আওয়ামী লীগ কারো দয়ায় টিকে নেই। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস বিএনপির মতো বন্দুকের নলে নয়। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস এ দেশের জনগণ। কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের শিকড় বাংলাদেশের মাটির অনেক গভীরে। প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতা না থাকায় ফখরুল সাহেবরা পথ হারা পথিকের মতো দিশেহারা, আওয়ামী লীগ সে দল নয়। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, যতদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পতাকা এদেশে উড্ডীন থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগ থাকবে। যতদিন শেখ হাসিনার কৃতি-উন্নয়ন থাকবে, আওয়ামী লীগও থাকবে সবুজের পটভূমিতে লাল সূর্যের পতাকায় উড়বে, আমার সোনার বাংলা জাতীয় সংগীত বাজবে, যতদিন এ বাংলায় পাখিরা গান গাইবে, নদীর কলতান থাকবে, ততদিন এ বাংলায় বঙ্গবন্ধু থাকবেন, শেখ হাসিনা থাকবেন, আওয়ামী লীগও বেঁচে থাকবে। 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে পিছিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই অশুভ শক্তি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা করে ছিলো। 

ঠিক সেই মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন এবং সেই অপশক্তির হাত থেকে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করেছিলেন। তার নেতৃত্বে আজ দেশে গণতন্ত্র উন্মুক্ত। 

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ যখন বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে একটি অশুভ রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা মনে করেছে, মিথ্যাচার, গুজব, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করে সফল হবে। কিন্তু তারা সেই অপরাজনীতিতে ব্যর্থ। দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে রাজনীতি, সেই রাজনীতি তারা শেখেনি। 

ফলে তারা আজ জনগণ থেকে অনেক দূরে আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীতি ও আদর্শের সাথে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নামে জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম আরও বলেন, দেশ ও দেশের মানুষকে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

আজ বিশ্বসভায় বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। সেই বাংলাদেশকে যারা পিছিয়ে দিতে চায়, সেই বাংলাদেশ যারা ব্যর্থ করতে চায়, ধ্বংস করতে চায়, যারা একজন নেত্রীর (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার নামে জ্বালাও-পোড়াও, সভা-সমাবেশ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে। এসব অপশক্তিতে মহানগর আওয়ামী লীগ প্রতিহত করবে এবং শক্ত হাতে মোকাবিলা করবে।

অনাহার-অর্ধাহারে আওয়ামী লীগ দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, গত ১৩ বছর আগে বাংলাদেশ ছিলো বিশ্বের সব থেকে দরিদ্রতম দেশ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাত্র ১৩ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এসেছে। এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ উন্নত-সমৃদ্ধ জীবন পেয়েছে। যারা আগে ছনের ঘরে থাকতেন, তারা আজ টিনের ঘরে থাকেন। যাদের ঘরে কুপি বাতি জ্বলতো, আজ তাদের ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলে। যারা কাঁচা রাস্তায় হাঁটতেন, তারা আজ পাকা রাস্তায় হাঁটছেন। 

আমরা যারা আওয়ামী লীগের সাথে আছি তারাও কিন্তু সবাই দলের অতিরিক্ত সুবিধা নিয়ে সমৃদ্ধশালী হয়েছি। এমপি-মন্ত্রী বলি, মহানগর নেতা বলি, থানা পর্যায়ের নেতা বলি, ওয়ার্ডপর্যায়ের নেতা বলি আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা বলি, সবাই কিন্তু আওয়ামী লীগের সুবিধা নিয়ে সমৃদ্ধশালী হয়েছেন। কিন্তু  এই ১৩ বছরে আওয়ামী লীগ সেভাবে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী হয়নি। 

আওয়ামী লীগ শক্তিশালীও হয়নি। অনাহার-অর্ধাহারে আওয়ামী লীগ দিন দিন শুকিয়ে গেছে। মির্জা আজম বলেন, দেশটাকে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করছেন। তার পরিশ্রম ও সঠিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। নেত্রীর সব অর্জন বিসর্জন হয়ে যায় যখন দেখি আ.লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। এই চাঁদাবাজদের আওয়ামী লীগে স্থান দেয়া যাবে না। যদি তারা স্থান পায়, তাহলে আ.লীগের সবার পরিশ্রম বৃথা যাবে। 

তিনি আরও বলেন, দলে যাদের ত্যাগ আছে, যাদের মধ্যে সততা ও নিষ্ঠা আছে তাদের খুঁজে খুঁজে দায়িত্ব দিতে হবে। নতুন কমিটি গঠনে যদি চাঁদাবাজদের স্থান হয়, আমরা যত উন্নয়ন করি, রাস্তাঘাট বানাই, বিদ্যুৎ দেই, সাধারণ মানুষ আমাদের ভোট দেবে না। তাই আমাদের সু-শৃঙ্খল থাকতে হবে। দলের গঠনতন্ত্র মেনে চলতে হবে। শুধু দল করলাম আর বড় বড় মিছিল করলাম, তা কিন্তু হবে না। সম্মেলনে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যাতে প্রতিটি ইউনিট কমিটিগুলো ভোটের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা ভোট সংগ্রহ করবে এবং আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করবে।   

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, আজ স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স পঞ্চাশ বছর। এই পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাত্র ২০ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে জনগণকে সেবা দেয়ার সুযোগ পেয়েছে। আর স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা দায়িত্ব পালন করেছে তিন দশক। অথচ আজ বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে যা কিছু হয়েছে, সবকিছুই বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা বারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে এবং বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষকে সেবা করবেন। 

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যখন পালন করছি, ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা দেখছি, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে, যারা দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে— তারা আজ আবার দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। এক সাজাপ্রাপ্ত আসামির চিকিৎসার নামে আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা করছে। এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। 

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, দখলবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িতদের মহানগর আওয়ামী লীগে স্থান নেই। যারা জনগণের কল্যাণে কাজ করে না, সাধারণ মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করতে পারে না। তাদের মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার অধিকার নেই। পরিশ্রমী, মেধাবী, জনপ্রিয় ও বিতর্কমুক্ত নেতাদের মাধ্যমে ওয়ার্ড এবং ইউনিটের কমিটি গঠন করা হবে। মহানগর দক্ষিণের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড, ইউনিট হবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগ।