শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত চাই

"অমুক তারিখে খুলে দেয়া হচ্ছে সকল বিশ্ববিদ্যালয়" শিরোনামের সংবাদ পড়ে হাজারো শিক্ষার্থী ফিরেছেন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। ছেড়ে দিয়েছেন নিজ এলাকার সকল টিউশন আর পারিবারিক কাজ। শিক্ষার্থীদের জীবনচক্রে চলে এলো নানাবিধ পরিবর্তন। ওইদিকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হবে বললেও হল কিন্তু বন্ধ।  কিনলেন টেবিল চেয়ার আবার নতুন মেসে বা বাসা নিলেন৷  দিলেন বাসা ভাড়া। 

এরপর তাঁরা  বুঝতে পারলেন সেটা আসলে "কথার কথা " ছিলো। শিক্ষার্থীরা এরকম বক্তব্যে বিশ্বাস করে শারীরিক, আর্থিক এবং মানসিকভাবে হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত। এমনটা কিন্ত একবারই হয়নি। হয়েছে অনেকবার। এখন আর শিক্ষার্থীরা এসব কথা বিশ্বাস করেন না। কখনো বলা হয় সংক্রমণের হার ৫% এর কম হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। আবার কখনো বলা হয় সকল শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় এনে তবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। 

এবার আসি টিকার কথায়। করোনাকালীন সময়ে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বন্ধ। কেনো বন্ধ সেটা জানেন না শিক্ষার্থীরা। তারা শুধুমাত্র এতোটুকুই জানেন যে করোনারা স্কুল-কলেজে বাসা বেঁধেছে। যদিও সেই স্কুল-কলেজেই চলে ভোটের আয়োজন। বিস্মিত হয়ে শিক্ষার্থীরা কখনো কখনো বলে ওঠেন " যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করোনার ভয়, সেখানে কিভাবে ভোট হয়!" 

শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয় আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিন্তা কোনো শেষ নেই! কত-শত পরিকল্পনা আর আয়োজন যেসব তাঁরা মিডিয়াতে বলে বেড়ান।  যদিও করোনার প্রথম ধাপের টিকা পাননি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদেরকে ভালোবেসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখা হলেও প্রথম ধাপের টিকা পাননি শিক্ষার্থীরা। এটা অবশ্য বিস্ময়কর ব্যাপার। 

অনলাইনের এই যুগে শিক্ষার্থীদের আলাদা করে টিকার আওতায় আনতে মাত্র কয়েকদিন সময় লাগার কথা। প্রতিটি স্কুল,কলেজে টিকার ক্যাম্পেইন করলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে টিকার আওতায় আনা যেতো সকল শিক্ষার্থীদের। ওইদিকে প্রথমদিকে শুধুমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হবে জানানো হলেও  পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো আবাসিক-অনাবাসিক সবাইকে দেয়া হবে। আবাসিক বা অনাবাসিক জটিলতা তৈরী না করলে এতোদিনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শতভাগ শিক্ষার্থীকে আনা যেতো টিকার আওতায়। 

ওইদিকে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আছেন যাদের বয়স সবেমাত্র ১৮ পেরিয়েছে। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে নেই বলে টিকার জন্য করতে পারেননি আবেদন। জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করেও তাদেরকে শিকার হতে হয়েছে নির্মম আরেক অভিজ্ঞতার। ওই দপ্তরে নাকি কচ্ছপের গতিতে কাজ চলে। সবশেষে ইউজিসির কথামতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের টিকা নিয়ে জরিপ করেছে ইতিমধ্যে। এটা কিন্তু কতো আগেই করা যেতো!  

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার চেয়ে বারবার খুলে দেয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা খারাপ করে দেয়া আরো বেশি কষ্টদায়ক। সেই শিক্ষার্থীর কথা একবার ভাবুন যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার ঘোষণা পেয়ে শতো কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে, পারিবারিক কাজ এবং টিউশনি ছেড়ে দিয়ে নতুন করে মেস বা বাসা ভাড়া নিয়েছে। প্রতিবারের ঘোষণায় মানসিক এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন শিক্ষার্থীরা। 

শুধুমাত্র আপনাদের একটি বাক্যে পরিবর্তিত হয়ে যায় কোটি কোটি শিক্ষার্থীর জীবনচক্র। আপনারা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাবুন। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবুন। আমরা শিক্ষার্থীরা দু'দিন পরপর বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার ঘোষণা শুনতে চাইনা। আমরা চাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে বা টিকার আওতায় এনে যেভাবেই হোক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদেরকে সিদ্ধান্ত জানানো হোক।

লেখক:  যোবায়ের ইবনে আলী, শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিক, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। 

আমারসংবাদ/এআই