Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ১৮ মে, ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাফ পাস বিড়ম্বনায়!

আমার সংবাদ ডেস্ক

নভেম্বর ৯, ২০২১, ১১:৫৫ এএম


ঢাকা শহরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে কয়েকলক্ষ শিক্ষার্থী। এই শিক্ষার্থীদের অধিংকাশই চলাচলের জন্য ব্যাবহার করতে হয় গণপরিবহন তবে অতিরিক্ত ২৭% বাস ভাড়া বৃদ্ধির ফলে বিড়ম্বনায় পরতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের । গণপরিবহন গুলোতে সিটিং সার্ভিসের নামে চলছে এক ধরনের প্রতারনা মূলক কর্মকান্ড । দাঁড়িয়ে যাত্রীবহন করলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে । এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত যা অনেকের কাছে এক রকম বিড়ম্বনার । 

২০১৯ সালে এর জের ধরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ওয়াসিমকে বাস থেকে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটে। কয়েক বছর আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সোনাপুর বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিকদের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এমন ঘটনা আমরা প্রতিনিয়তই দেখতে পাই এবং হাস পাস নিয়ে লাঞ্চনার শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের । 

১৯৬৪ সালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) চারটি বাসের মাধ্যমে সরকারিভাবে গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করে। মূলত তখন থেকে সরকারি বাসে চালু হয় শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাসের প্রচলন।

এমন প্রচলনের পর ধীরে ধীরে বেসরকারি পরিবহনেও হাফ পাসের বন্দোবস্ত করা হয়। তবে এখন রাজধানীর প্রায় সব রুটে হাফ পাস না মানার কারণ হিসেবে পরিবহন মালিকরা বলছেন, বেসরকারি পরিবহন কোম্পানিগুলোর সাথে সরকারের এমন কোন লিখিত চুক্তি নেই। তবুও নায্য অধিকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস ব্যবস্থা পুরোদমে চালু করার দাবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের। উন্নত বিশ্বের যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকায় ছাত্রছাত্রীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। নানা সময় ঘটছে প্রাণহানিও। হাফ পাসের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, বিশ্বের অনেক দেশেই হাফ ভাড়া, বিনা ভাড়ার বিষয়টি চালু রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় চলাচলের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রেখেছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্য সরকার। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপ-আফ্রিকার অনেক দেশেও এটা চালু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ট্রান্সপোর্ট অথরিটি শিক্ষার্থীদের জন্য কার্ড চালু করেছে; যা দিয়ে বাস ও ট্রেনে অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারে। দিল্লিতে ১০০ রুপির (১৩০ টাকা প্রায়) কার্ড দিয়ে সাধারণ বাসে সারা মাস যাতায়াত করতে পারে শিক্ষার্থীরা। আর এসি বাসে অন্য যাত্রীদের মাসে এক হাজার ২৭৫ রুপির কার্ড লাগে, ছাত্র-ছাত্রীদের দিতে হয় ২০০ রুপি। ভারতের কেরালা রাজ্যে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া আট রুপি। এর সঙ্গে বাড়তি এক রুপি দিয়ে ৪০ কিলোমিটার যাতায়াত করতে পারে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা  বলছেন, তারা আয় রোজগার করেন না। কেউ পরিবারের টাকায়, কেউ টিউশনি আবার কেউ পার্টটাইম জব কিংবা অন্য কোনো উপায়ে টাকা ম্যানেজ করে চলতে হয়; মূলত সেই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার প্রচলন ঘটে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, দিন দিন সেটা হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, হাফ ভাড়া দিতে গেলে কখনো শিক্ষার্থীদের অপমান কখনওবা বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারা বলছেন বর্তমানে বাস ভাড়া বৃদ্ধির ফলে চরম বিড়ম্বনায় পরতে হচ্ছে তাদের। 

ঢাকা কলেজে অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী তানবীর হাসান বলেন ,মিরপুর থেকে আগে বাস ভাড়া ২৫ টাকা দিতে হতো কিন্তু বর্তমানে ৩৫ টাকা করে আদায় করছে কিছু বাস । এভাবে প্রতিদিন যাতায়াতে তার প্রায় ৭০ টাকা দরকার হয় এবং এটা মাস শেষে ২১০০ টাকা কাছাকাছি । হাফ পাস দিতে গেলে লাঞ্চিত হতে হয় বাস হেলপার ও কন্ডাক্টদের কাছ থেকে তাই বাধ্য হয়েই দিতে হচ্ছে ফুল ভাড়া । যা আমার পক্ষে অতিরিক্ক বোঝা হয়ে যাচ্ছে।

সরকারি তিতুমীর কলেজের  ছাত্রী তাসনিম বার্তা বাজারকে  জানান, মনজিল (কামারপাড়া টু চিটাগাংরোড রুট) বাসে যাতায়াতের সময় হাফ ভাড়া দেয়া হলে অপমান করে তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। একই কলেজের রসায়ন বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়া শিমু জানান অনাবিল পরিবহন কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই হাফ পাশ কাটেন না। অপরদিকে ইডেন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তানিয়া জেরিন জানান, রজনীগন্ধা বাস শিক্ষার্থী দেখলে দরজা বন্ধ করে দেয়। ঢাকা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র নাঈম জানান, মালঞ্চ বাসটি হাফ পাশ কাটতে বললে মালিকের অযুহাত দেখান।

নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের লুবনা জানান, লাব্বাইক বাসের হেল্পার তার সাথে অশালীন আচরণ করে। হাফ ভাড়া নিয়ে মনজিল  বাসের চালক স্বপন এবং তার হেল্পারকে প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, হাফ পাশ শুধু স্টাফ , পুলিশ এবং প্রতিবন্ধীর জন্য। কোম্পানি ছাত্রছাত্রীদের জন্য কোন পাশ রাখেনি। অপরদিকে চেকার ও সমভাবে কোম্পনির উপর দায় চাপিয়ে যায়। বিকাশ, আলিফ, লাব্বাইক পরিবহনের হেলপার ও চালকরাও একই কায়দায় কোম্পানির অজুহাত দেখান। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, বেসরকারি বাসে ছাত্রছাত্রীদের জন্য পাশ নেই, পাশ সরকারি বাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার এম মুরাদ আলী হাফ পাস বাস্তবায়নের বিষয়ে হতাশার কথা জানিয়ে বলেন, হাফপাশ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার। অনেক চেষ্টা করেও বাংলাদেশে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের একটি অফিসিয়াল গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবহনের বাস নিয়ে অভিযোগ করেন। যেসব পরিবহনে হাফ পাস নেয়া হয় না এমন কিছু পরিবহনের বিষয়ে অভিযোগে করেছেন শিক্ষার্থীরা। এগুলো হলো: মনজিল (কামারপাড়া টু চিটাগাংরোড), লাব্বাইক (সাইবোর্ড টু জিরানী), ট্রান্সসিলভা (যাত্রাবাড়ি টু মিরপুর), রজনীগন্ধা (চিটাগাংরোড টু মোহাম্মদপুর), অনাবিল (সাইনবোর্ড টু গাজীপুর), রবরব (গাবতলী ট ডেমরা), ছালছাবিল (সদরঘাট টু গাজীপুর),

লেখক:
ওমর ফারুক
শিক্ষার্থী ঢাকা কলেজ
ইংরেজি বিভাগ

আমারসংবাদ/ইএফ